ছাত্রীকে যৌন হয়রানির খবরে মহিলা মাদ্রাসায় আগুন দিল স্থানীয়রা, শিক্ষককে পুলিশে সোপর্দ
পাবনায় একটি আবাসিক মহিলা মাদ্রাসায় এক ছাত্রীকে (১৬) যৌন হয়রানির অভিযোগে এক শিক্ষককে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে মাদ্রাসা ভবনটিতে আগুন ধরিয়ে দেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ
জার্নাল ডেস্কপাবনায় একটি আবাসিক মহিলা মাদ্রাসায় এক ছাত্রীকে (১৬) যৌন হয়রানির অভিযোগে এক শিক্ষককে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে মাদ্রাসা ভবনটিতে আগুন ধরিয়ে দেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে পাবনা জেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশে সোপর্দ করা ওই শিক্ষক হলেন মাদ্রাসার পরিচালক আবু ইউসুফ (৫৫)।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবু ইউসুফ একটি একতলা বাড়ি ভাড়া নিয়ে আবাসিক মহিলা মাদ্রাসাটি চালু করেন। মাদ্রাসার একটি কক্ষে ছাত্রীরা থাকতেন। তাঁদের সঙ্গে নারী শিক্ষক ছিলেন। পাশের একটি কক্ষে থাকতেন শিক্ষক আবু ইউসুফ।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাঁর সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোরের দিকে ওই শিক্ষার্থী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে নিজের কক্ষ থেকে বের হন। এ সময় শিক্ষক আবু ইউসুফ তাঁকে টেনেহিঁচড়ে নিজের কক্ষে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। আরেক ছাত্রী ঘটনাটি দেখতে পেয়ে দ্রুত বাইরে এসে লোকজনকে ডাকতে থাকেন। এ সময় স্থানীয়রা ছুটে গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করেন। অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ এসে তাকে আটক করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন জানান, সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা মাদ্রাসাটিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এ সময় সেখানে থাকা অন্য শিক্ষার্থীদের পুলিশ নিরাপদে সরিয়ে নেয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় এক যুবক বলেন, খবর পেয়ে ছুটে গিয়ে তারা দেখেন ওই শিক্ষকের গায়ে কাপড় নেই। পরে তারা তাকে বেঁধে রেখে থানায় খবর দেন।
দুপুর ১২টার দিকে সরেজমিন দেখা যায়, বাড়িটিতে আগুন জ্বলছিল। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। শত শত উৎসুক মানুষ বাড়িটি ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য তাদের শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন।
জানতে চাইলে ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ বলেন, ভোরে ঘটনার পরই মেয়েটি ছুটে এসে বিষয়টি জানায়। আমরা দ্রুত গিয়ে আটক ওই শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি ঘটনা স্বীকার করার পর পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পাবনা জেলা পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ। তিনি বলেন, মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাদ্রাসার অন্য ছাত্রীদের নিরাপদে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা চলছে। আটক শিক্ষক থানায় আছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মেয়েটির চাচা একটি মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। মামলা দায়ের হলে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হবে।
বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম