সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কনটেন্টের দর্শকসংখ্যা পরিমাপের প্রচলিত পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসছে। আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে কনটেন্টের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণে ‘রিচ’ মেট্রিকের পরিবর্তে ‘ভিউয়ারস’ ব্যবহারের নোটিশ দেখা গেছে মেটার বিজনেস স্যুটে। এ পরিবর্তনের ফলে ফেসবুক পেজের কনটেন্ট কতজনের কাছে পৌঁছেছে, তা বিশ্লেষণে নতুন হিসাবপদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হতে হবে কনটেন্ট নির্মাতা, সংবাদমাধ্যম ও ডিজিটাল বিপণনকর্মীদের।
ডিজিটাল বিপণনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ওয়ার্কেশন ল্যাবের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের পর্যবেক্ষণে মেটা বিজনেস স্যুটের ‘পোস্ট ও রিলস’ ব্যবস্থাপনা বিভাগে ৩১ অক্টোবর থেকে ফেসবুকের ‘রিচ’ মেট্রিক বন্ধ হওয়ার নোটিশ দেখা গেছে। ওই নোটিশে কনটেন্ট কতটি অ্যাকাউন্ট দেখেছে, তা পরিমাপের প্রধান সূচক হিসেবে ‘ভিউয়ারস’ ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এ পরিবর্তনের জন্য নির্ধারিত ৩১ অক্টোবরের সময়সীমা মেটার প্রকাশ্য আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাই আপাতত বিজনেস স্যুটে প্রদর্শিত নোটিশের ভিত্তিতেই এ তারিখসংক্রান্ত তথ্য বিবেচনা করা হচ্ছে।
এত দিন ফেসবুক পেজের কনটেন্টের কার্যকারিতা মূল্যায়নে ‘রিচ’ একটি বহুল ব্যবহৃত সূচক হিসেবে পরিচিত ছিল। এর মাধ্যমে কোনো পোস্ট বা কনটেন্ট কতজন স্বতন্ত্র ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছেছে, তার হিসাব পাওয়া যায়। নতুন ‘ভিউয়ারস’ মেট্রিকের মাধ্যমে কনটেন্ট দেখেছেন এমন স্বতন্ত্র দর্শক বা অ্যাকাউন্টের সংখ্যা তুলে ধরার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ‘ভিউস’ বলতে কোনো কনটেন্ট মোট কতবার দেখা হয়েছে, সেই হিসাব বোঝায়। একজন ব্যবহারকারী একই কনটেন্ট একাধিকবার দেখলে প্রতিবারের দেখা ভিউসের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এ কারণে ‘ভিউয়ারস’ ও ‘ভিউস’ দুটি আলাদা পরিমাপক। একটি দিয়ে স্বতন্ত্র দর্শক বা অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বোঝানো হয়, অন্যটি দিয়ে কনটেন্ট দেখার মোট সংখ্যা হিসাব করা হয়।
মেটার এপিআই এবং বিভিন্ন বিশ্লেষণী সেবার নথিতেও ২০২৬ সালে ফেসবুকের পুরোনো রিচ ও ইমপ্রেশন-সংক্রান্ত কিছু সূচকে পরিবর্তন এবং নতুন মিডিয়া ভিউ ও ভিউয়ারসভিত্তিক হিসাব চালুর তথ্য উঠে এসেছে। তবে এ পরিবর্তন ফেসবুকের সব মেট্রিক, সব সেবা এবং বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ক্ষেত্রে একইভাবে কার্যকর হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত তথ্য নেই।
নতুন হিসাবপদ্ধতি চালু হলে কনটেন্ট নির্মাতা ও পেজ পরিচালকদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। রিচ ও ভিউয়ারসের গণনার ভিত্তি আলাদা হলে আগের প্রতিবেদন এবং নতুন প্রতিবেদনের সংখ্যার মধ্যে সরাসরি তুলনা করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। কোনো পেজের ভিউয়ারসের সংখ্যা বাড়া বা কমার অর্থ সব সময় কনটেন্টের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি কিংবা হ্রাস নয়। এ ক্ষেত্রে পরিমাপের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।
বিশেষ করে সংবাদমাধ্যম, বিভিন্ন ব্র্যান্ড এবং ডিজিটাল বিপণন সংস্থার মাসিক ও বার্ষিক পারফরম্যান্স প্রতিবেদন তৈরির সময় বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। পুরোনো রিচের তথ্যের সঙ্গে নতুন ভিউয়ারসের হিসাব তুলনা করার ক্ষেত্রে মেট্রিক পরিবর্তনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন হতে পারে। এতে প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যায় বিভ্রান্তি কমবে।
এ পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে রিচের ভিত্তিতে হিসাব করা এনগেজমেন্ট রেটসহ কনটেন্টের কার্যকারিতা মূল্যায়নের বিভিন্ন সূচকেও। পাশাপাশি তৃতীয় পক্ষের বিশ্লেষণী টুল ব্যবহারকারীদের নতুন মেট্রিকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের প্রতিবেদন ও ড্যাশবোর্ড হালনাগাদ করার প্রয়োজন হতে পারে।
ডিজিটাল বিপণন বিশ্লেষকেরা পুরোনো তথ্য সংরক্ষণ, নতুন মেট্রিকের সংজ্ঞা যাচাই এবং প্রতিবেদনে পরিবর্তন কার্যকর হওয়ার তারিখ উল্লেখ করার পরামর্শ দিচ্ছেন। এসব পদক্ষেপ ভবিষ্যতে কনটেন্টের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন সময়ের তথ্য তুলনা করার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
তবে ‘রিচ’ মেট্রিকে পরিবর্তন আসার অর্থ ফেসবুকের কনটেন্ট বিতরণ অ্যালগরিদম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, এমন নয়। বিষয়টি মূলত দর্শকসংখ্যা পরিমাপ ও পারফরম্যান্স প্রতিবেদন তৈরির পদ্ধতির সঙ্গে সম্পর্কিত। একইভাবে, ৩১ অক্টোবর থেকে ফেসবুক বিজ্ঞাপনের সব রিচ সূচক বন্ধ হয়ে যাবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত নিশ্চিত তথ্যও এখনো পাওয়া যায়নি।
এ পরিস্থিতিতে ফেসবুক পেজ পরিচালকদের নিজেদের মেটা বিজনেস স্যুটে প্রদর্শিত নোটিশ এবং সংশ্লিষ্ট মেট্রিকের সংজ্ঞা যাচাই করে পরবর্তী প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি পুরোনো তথ্য সংরক্ষণ ও নতুন হিসাবপদ্ধতির সঙ্গে প্রতিবেদনের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে কনটেন্টের কার্যকারিতা মূল্যায়ন আরও নির্ভরযোগ্যভাবে করা সম্ভব হবে।
