কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান তৈরি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা এবং গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে গঠিত ৬০ হাজার কোটি টাকার ১৫টি বিশেষ তহবিলের অর্থ ছাড়ে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত এসব স্কিমের বিপরীতে মাত্র ১১ হাজার ৯৫৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে। এর বাইরে আরও ২ হাজার ৫৫৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ছাড়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিতরণ ও প্রক্রিয়াধীন মিলিয়ে মোট অর্থের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৫১৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের মাত্র ২৪ দশমিক ২০ শতাংশ। ফলে বরাদ্দের প্রায় ৭৫ দশমিক ৮০ শতাংশ অর্থ এখনো ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।
পুনঃঅর্থায়ন ও প্রাক্-অর্থায়ন সুবিধার আওতায় গঠিত এসব স্কিমের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটিতে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেলেও অধিকাংশ খাতেই গতি অত্যন্ত মন্থর। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে বরাদ্দের চেয়ে বেশি অর্থ বিতরণ হয়েছে। এই খাতে ৫ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দের বিপরীতে ছাড় করা হয়েছে ৬ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা। এছাড়া কটেজ ও মাইক্রো খাতের নতুন উদ্যোক্তা তৈরির তহবিলে ৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে আড়াই হাজার কোটি টাকা এবং সিএমএসএমই খাতের চলতি মূলধন তহবিলের ৫ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে ৯০৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ছাড় করা হয়েছে। সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য গঠিত ৫০০ কোটি টাকার তহবিলের পুরোটাই বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।
তহবিলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক্-অর্থায়ন স্কিমের বাস্তবায়ন তলানিতে রয়েছে। এই একক খাতে সর্বোচ্চ ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও এখন পর্যন্ত ছাড় হয়েছে মাত্র ৫৬০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা এবং ৯২৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা ছাড়ের অপেক্ষায় রয়েছে। বরাদ্দের তুলনায় বিতরণের এই হার অত্যন্ত হতাশাজনক।
অনুরূপ স্থবিরতা পরিলক্ষিত হয়েছে খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি ও কর্মসংস্থানভিত্তিক স্কিমগুলোতেও। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও পল্লি অঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে গঠিত ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিলের বিপরীতে বিতরণ হয়েছে মাত্র ২৯২ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এছাড়া উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার ৩ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে ছাড় হয়েছে মাত্র ৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। বৈদেশিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির ১ হাজার কোটি টাকার তহবিলের মধ্যে বিতরণ হয়েছে ২০০ কোটি টাকা। নতুন উদ্যোগ বা স্টার্টআপ খাতের ৫০০ কোটি টাকার বরাদ্দের বিপরীতে ছাড় হয়েছে কেবল ৩২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা এবং ৫ কোটি টাকা ছাড়ের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
তালিকায় থাকা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্কিমে অর্থ ছাড়ের হার এখনো শূন্যের কোটায় রয়েছে। ৩ হাজার কোটি টাকার রপ্তানি বহুমুখীকরণ স্কিম, ১ হাজার কোটি টাকার গ্রামীণ অর্থনীতি গতিশীলকরণ তহবিল এবং ২ হাজার কোটি টাকার হিমায়িত চিংড়ি ও মাছ রপ্তানি খাতের তহবিলের বিপরীতে গত ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো অর্থ বিতরণ করা যায়নি। অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব শিল্প ও গ্রিন ফ্যাক্টরি খাতের ১ হাজার কোটি টাকার তহবিলের পুরোটাই অবণ্টিত থাকলেও ৫২৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ছাড়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চামড়াজাত ও পাদুকা শিল্পের ২ হাজার কোটি টাকার স্কিমে ৯৮ কোটি টাকা এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গঠিত ১ হাজার কোটি টাকার স্কিমের পুরো বরাদ্দই ছাড়ের অপেক্ষায় রয়েছে। সামগ্রিকভাবে মোট তহবিলের এক-চতুর্থাংশেরও কম অগ্রগতি হওয়ায় অর্থায়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
