আইএসএলের প্রথম ম্যাচে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের কাছে হারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে দিল্লিকে হারিয়েছে মোহনবাগান। তবে দু’টি ম্যাচেই তাঁদের খেলা মন ভরাতে পারেননি। চেন্নাইয়িন ম্যাচের আগেও সমস্যার শেষ নেই। চোট বা অন্যান্য কারণে একাধিক ফুটবলারকে পাচ্ছেন না কোচ পানাজিয়োটিস দিমপেরিস। ফলে সোমবার গোল কে করবেন সেটাই বড় চিন্তা। ম্যাচের আগে পানোস অবশ্য তা বুঝতে দেননি।
আগের দু’টি ম্যাচেই মোহনবাগান প্রচুর গোলের সুযোগ তৈরি করলেও বল জালে জড়াতে পারেনি। সুযোগ তৈরি হয়েও নষ্ট হয়েছে। দলের মধ্যে বোঝাপড়া এবং ছন্দের অভাবও দেখা গিয়েছে। চেন্নাইয়িনের বিরুদ্ধে কোনও রকম ভুল করতে রাজি নন পানোস। তিনি চাইছেন, দলের সকলে নিজেদের সেরাটা দিক ম্যাচ বার করতে।
রবিবার অনুশীলনে দেখা যায়নি মিগুয়েল ফিগুয়েরাকে। তাঁর হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট এখনও সারেনি। হাসপাতালে ভর্তি থাকায় ছিলেন না আপুইয়াও। চোটে থাকা জেমি ম্যাকলারেন এ দিন দলের সঙ্গে অনুশীলন করেননি। একা একা অনুশীলন করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। প্রথমে স্ট্রেচিং, পরে বল নিয়ে হালকা কসরত করেন। মোহনবাগানকে গোল করার জন্য তিন জনের উপরেই নির্ভর করতে হয়। বিশেষ করে ম্যাকলারেনের না থাকাটা ভোগাচ্ছে মোহনবাগানকে।
আপুইয়া না থাকায় মাঝমাঠে সামির জেলকোভিচকে বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। অনিরুদ্ধ থাপার সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি ভারসাম্য রাখতে সাহায্য করবেন। ফরোয়ার্ডে খেলতে পারেন লি আরউইন। মনবীর সিংহ, সাহাল সামাদ এবং দেজান দ্রাজিচকে আগ্রাসী ভূমিকা কাজে লাগানো হতে পারে। আগের ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও লালিয়ানজুয়ালা ছাংতে লেফট ব্যাক হিসাবে খেলতে পারেন।
দলের সমস্যার কথা চেন্নাইয়িন শিবিরকে বুঝতে দিতে নারাজ পানোস। তাই সাংবাদিক বৈঠকে যাঁরা হাতে আছেন তাঁদেরই প্রশংসা করেছেন। বলেছেন, “চেন্নাইয়িন শক্তিশালী দল। ভাল কোচ, ভাল ফুটবলার রয়েছে। মাদিহ তালাল, নিকোলা স্টোজানোভিচ আমাদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। ওদের বিরুদ্ধে জিততে গেলে গোল করতে হবে। আগেও অনুশীলনে গোল করার উপর জোর দিয়েছি। এ বারও তাই করব।”
দিল্লি ম্যাচের পর ১০ দিনের বিরতি নিয়ে খেলতে নামছে মোহনবাগান। পানোসের ইঙ্গিত, মাঝের এই সময়টা তাঁরা ভাল ভাবে কাজে লাগিয়েছেন। তবে সুযোগ নষ্টের কথা তাঁর মুখে শোনা গিয়েছে বার বার।
এ দিকে, উরুগুয়ে ম্যাচে ভারতের একমাত্র গোল যাঁর পা থেকে এসেছে, সেই অনিরুদ্ধ জানিয়েছেন, তিনি গর্বিত। ওই গোল তাঁকে বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাবে আইএসএলে ভাল খেলার।
