ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, আদা, রসুনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অনিয়ম ঠেকাতে দেশের ৩৬ জেলায় অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। রবিবার পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ১০১টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে মোট ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অধিদপ্তরের ৫২টি বিশেষ দল গতকাল দেশের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে এ অভিযান চালায়। অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযানে ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, আদা ও রসুনসহ রান্নার প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরির মতো অনিয়ম খতিয়ে দেখা হয়।
এ সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার, দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং পণ্যের সঠিক ওজন নিশ্চিত করার বিষয়গুলো যাচাই করেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
অভিযান চলাকালে ব্যবসায়ীদের মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ডিজিটাল ওজনযন্ত্র ব্যবহার করে পণ্য বিক্রি এবং ক্রয়-বিক্রয়ের যথাযথ নথিপত্র সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি অযৌক্তিক মজুতদারি ও পণ্যের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করার মতো অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।
বাজারে সচেতনতা বাড়াতে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। অভিযানে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং বণিক সমিতির প্রতিনিধিরা সহযোগিতা করেন।
এদিকে, ভোক্তাদের আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য না কেনার আহ্বান জানিয়েছে অধিদপ্তর। কেনাকাটার সময় পণ্যের মেয়াদ ও সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) যাচাই করার পাশাপাশি ক্যাশমেমো বা ক্রয়ভাউচার সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।
পণ্য কেনাবেচায় প্রতারণা, মূল্য কারসাজি বা অন্য কোনো অনিয়মের শিকার হলে অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ জানাতে পারবেন ভোক্তারা। বাজারে পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
