ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি-র তৈরি করা প্রশ্নপত্রের ৪৫টি প্রশ্ন হুবহু মিলে গিয়েছে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে। সূত্রের খবর, নিট ইউজি ২০২৬ প্রশ্নফাঁস মামলায় সম্প্রতি দিল্লি ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করে এমনই জানিয়েছে সিবিআই।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, নিট ইউজি প্রশ্নফাঁস মামলায় আগেই গ্রেফতার হয়েছিলেন লাতুরের এক প্রশিক্ষণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা শিবরাজ মোতেগাঁওকর। তাঁর কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা মোবাইল ফোনে একাধিক প্রশ্নের সংকলন পাওয়া গিয়েছিল। তারই মধ্যে একটি প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছে এনটিএ-র তৈরি করা এক সেট প্রশ্ন। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ মতামতের কথা উল্লেখ করে এমন জানিয়েছে সিবিআই।
তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে এর আগেই এনটিএ জানিয়েছিল, নিট-এর জন্য তারা চারটি ‘মাস্টার সেট’ প্রশ্নপত্র তৈরি করে। তার মধ্যে দুই সেট প্রশাসনিক কাজে ব্যবহারের জন্য প্রশ্নপত্র ছাপানো হয় নির্ধারিত সংখ্যায়। এগুলি পরীক্ষার দিন পরীক্ষাকেন্দ্রে বিতরণ করা হয়। অন্য দুই সেট প্রশ্ন রাখা থাকে। সেগুলি সাধারণত পরীক্ষার সময় ব্যবহার করা হয় না। এ বারও সে ভাবেই চার সেট প্রশ্ন তৈরি করা হয়েছিল। প্রশাসনিক ব্যবহারের জন্য তৈরি করা প্রশ্নপত্রগুলির কোড নাম দেওয়া হয়েছিল ‘কৈলাস’ ও ‘শিবালিক’।
সূত্রের খবর, চারটি মাস্টার সেট প্রশ্নপত্রের প্রতিটিতে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, উদ্ভিদবিজ্ঞান এবং প্রাণিবিজ্ঞানের ৪৫টি করে মোট ১৮০টি করে প্রশ্ন থাকে।
সিবিআইয়ের পেশ করা সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, ‘শিবালিক’ সেট-এ রসায়ন বিভাগের ৪৫ টি প্রশ্ন হুবহু মিলে গিয়েছিল শিবরাজ মোতেগাঁওকরের ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া প্রস্তুতি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে।
লাতুরের ওই কোচিং ইনস্টিটিউট-এ ভর্তি হওয়া প্রার্থীদের কাছ উদ্ধার করা মক টেস্টের প্রশ্নপত্রের বিষয়ে সিবিআই দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞেরা মতামত দিয়েছেন। তদন্তে জানা গিয়েছে, গত ১৯ এপ্রিলের একটি প্রস্তুতি পরীক্ষায় (মক টেস্ট) যা প্রশ্ন এসেছিল, তার মধ্যে ১৫টি প্রশ্নই ‘কৈলাস’ মাস্টার সেটে ছিল। আবার ৩০ এপ্রিলের দ্বিতীয় প্রস্তুতি পরীক্ষায় ‘শিবালিক’ মাস্টার সেটের ৬টি প্রশ্ন এসেছিল। এ ছাড়া মাস্টার সেট ২-এর সঙ্গেও ৫টি প্রশ্ন মিলেছিল।
তবে মাস্টার সেট ৩-এর সঙ্গে মাত্র একটি প্রশ্নের মিল পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি। এ ক্ষেত্রে উঠে আসছে শিবরাজের সহযোগী পিভি কুলকর্নি নামে এক শিক্ষকের নাম। দাবি, তাঁর কাছে এই তৃতীয় সেট প্রশ্নটি ছিল না। ফলে তা ফাঁস করা যায়নি।
গত ২৮ জুলাই দিল্লির একটি ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতে সিবিআইয়ের পেশ করা চার্জশিটে নাম ছিল এনটিএ-র বেশ কয়েকজন বিষয় বিশেষজ্ঞের। সেখানে নাম ছিল জীববিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ মনীষা মানধারে, রসায়ন বিশেষজ্ঞ প্রহ্লাদ বিঠলরাও কুলকর্নি এবং পদার্থবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ মনীষা সঞ্জয় হবলদার-সহ ১৩ অভিযুক্তের।
প্রাথমিক তদন্তে সিবিআই জানতে পেরেছে, পরীক্ষার আগে হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম এবং এয়ারড্রপের মাধ্যমে প্রশ্নোত্তর চালাচালি করা হয়েছিল। বাজেয়াপ্ত হওয়া বিভিন্ন ফাইল, সাক্ষীদের জবানবন্দি, হাতে লেখা নোট এবং অর্থপ্রদান সংক্রান্ত নথির সাহায্যে ঘটনার মূলে পৌঁছতে চাইছেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা। এ ক্ষেত্রে উঠে এসেছে রাজস্থানের জয়পুর থেকে গ্রেফতার হওয়া বিকাশ বিওয়ালের প্রসঙ্গ। তাঁকে অগ্রিম ৫০০০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি সিবিআইয়ের।
