আজকাল ওয়েবডেস্ক: হাতে গোনা আর মাত্র তিনটে দিন। তারপরই বাঙালির ঘর আলো করে আসবে সকলের আদরের উমা, সঙ্গে তাঁর ছেলেমেয়েরা। তাই বাঙালির ঘরে ঘরে আজ খুশির আলো।
একের পর এক প্যান্ডেল এবং প্রতিমার উদ্বোধন শুরু হয়ে গিয়েছে। প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ইতিমধ্যেই দর্শনার্থীরা লাইন দিতে শুরু করে দিয়েছেন। তবে উৎসবের এই মরশুমে ঘুম নেই মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ থানার অন্তর্গত রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের।
দুর্গাপুজোর ঠিক মুখে এই গ্রামে নতুন করে হঠাৎই পদ্মা নদীর ভাঙন শুরু হয়েছে। নদী ভাঙনে নতুন করে তলিয়ে যাচ্ছে একের পর এক বাড়ি, প্রচুর চাষের জমি। গ্রামবাসীদের আশঙ্কা যেভাবে নদী ভাঙন চলছে তাতে সামনে বছর হয়তো গ্রামের একমাত্র দুর্গাপুজোটাও করা আর সম্ভব হবে না।
পদ্মা নদীর গ্রাসে চলে যেতে পারে গ্রামের দুর্গা মন্ডপ। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের লালগোলা থানার অন্তর্গত তারানগর গ্রামে পদ্মা নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
ভারতের মানচিত্র থেকে ইতিমধ্যে মুছে গিয়েছে তারানগর গ্রামের বেশিরভাগ অংশ। কয়েক হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। ভারতের মানচিত্রে তারানগর গ্রামের ঠিক আগে রাধাকৃষ্ণপুর গ্রাম।
সেই গ্রামেও গত বেশ কিছুদিন ধরে পদ্মা নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মঙ্গলবার সকালেও নতুন করে পদ্মা নদীর তীরবর্তী প্রায় দু'বিঘা জমি নদী গর্ভে তলিয়ে গিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেপ্টেম্বর মাসের ২২ এবং ২৩ তারিখে রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামে পদ্মা নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছিল। দু’দিনে প্রায় ৫০-৬০ বিঘা জমি নদী গর্ভে তলিয়ে গিয়েছে।
এর পাশাপাশি পদ্মা নদীতে বাড়ি তলিয়ে যাওয়ার কারণে গৃহহীন হয়ে পড়েছে প্রায় ৩০-৪০টি পরিবার। পুজোর মরশুমে এখন তাঁদের ঠিকানা ৬৮ নম্বর বাপুজি প্রাথমিক বিদ্যালয়। রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, গত কয়েকদিনে নদী ভাঙনের ফলে প্রচুর বাড়ি তলিয়ে গিয়েছে।
এছাড়াও চাষের জমি, আম, লিচু বাগানও তলিয়ে গিয়েছে পদ্মা নদীর গর্ভে। তার ফলে পুজোর মরশুমে কারও মুখেই হাসি নেই। গ্রামের বাসিন্দা সৌমেন দাস বলেন, ‘হরহরি মায়ের মন্দিরেই প্রত্যেক বছর আমাদের গ্রামে দুর্গা ঠাকুর তৈরি হয়। এই বছরও দুর্গা মূর্তি তৈরি হয়ে গিয়েছে। কিন্তু কারোরই মনে খুশি নেই। কারণ, গ্রামের প্রচুর লোকের বাড়ি ইতিমধ্যেই পদ্মা নদীর গর্ভে তলিয়ে গিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘পদ্মা নদীর ভাঙন থামার কোনও লক্ষণ নেই। যে হারে নদী ভাঙন চলছে তাতে আমাদের আশঙ্কা আগামী বছর হয়তো দুর্গা ঠাকুরের মন্দিরটিও পদ্মা নদীর গর্ভে তলিয়ে যাবে। একই সঙ্গে গ্রামের আরও প্রায় ৪০০ পরিবার উদ্বাস্তু হয়ে পড়বে। তখন কাদের নিয়ে পুজো হবে?’
গ্রামবাসীরা জানাচ্ছেন, গত দু’বছরে রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামে প্রায় ১৫০ পরিবার পদ্মা নদীর ভাঙনের ফলে উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তাঁরা রাস্তার ধারে বা আত্মীয়দের বাড়িতে বসবাস করছেন।
তাই দুর্গাপুজোর সময় রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামে খুশি নেই গ্রামে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, ভাঙন শুরু হওয়ার পর প্রশাসনের তরফে সুরক্ষিত স্থানে নিয়ে যাওয়া ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
https://youtu.be/JwFdq_tA9cE?si=43ndm4yXsNrwpJaQ
কিন্তু ভাঙন প্রতিরোধে কোনও স্থায়ী ব্যবস্থা এখনও নেওয়া হয়নি। তাই মা দুর্গার কাছে সকলের এখন একটাই প্রার্থনা, এই ভাঙন থেকে রক্ষা পান স্থানীয় বাসিন্দারা।
