দেশের প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় একসময় গ্রিডের বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না। তখন ৬৫ লাখ সোলার হোম সিস্টেমের মাধ্যমে অনেক দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দেয়া হয়। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা এবং জ্বালানি রূপান্তরে প্রাথমিক ক্ষেত্র হিসেবে সে সময় সৌরবিদ্যুতের এ কর্মসূচিকে অত্যন্ত শক্তিশালী ও কার্যকর সমাধান হিসেবে দেখা হয় আন্তর্জাতিক মহলেও। দেশে-বিদেশে প্রশংসা পেলেও পরবর্তী সময়ে সোলারসহ নবায়নযোগ্য উৎসের ব্যবহার বিস্তৃত করা যায়নি।
জ্বালানি রূপান্তর ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে বার বার উদ্যোগ নিয়েও লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। যার প্রতিফলন দেখা যায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের করা গ্লোবাল এনার্জি ট্রানজিশন ইনডেক্সেও। জ্বালানি রূপান্তরে বিশ্বের ১২০টি দেশের এ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৯৯তম। এ তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রীলংকা, প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানেরও পেছনে বাংলাদেশ।
চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় এনার্জি ট্রানজিশন বা জ্বালানি রূপান্তরে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে উন্নত দেশগুলো। অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় এ রূপান্তর প্রক্রিয়া অনেক বছর ধরেই বৈশ্বিক পরিসরে আলোচিত। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ৭ নম্বর লক্ষ্য ‘সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি’। ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য, টেকসই ও আধুনিক জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি রূপান্তরে বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়ার কারণ মূলত প্রস্তুতির অভাব। অতীতে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, কিন্তু সেটা অর্জনে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছিল না। বছরভিত্তিক পরিকল্পনা অর্থাৎ রোডম্যাপ, নীতিমালা, অর্থায়ন, জমি অধিগ্রহণ, প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ জনবলসহ নানা সংকট ছিল। আগের চেয়ে এখন জ্বালানি রূপান্তরে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগে তদারকি থাকলে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের লক্ষ্যমাত্রা যেমন পূরণ হবে, তেমনি জ্বালানি রূপান্তরেও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে সরকার।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন দেশের জ্বালানি খাতের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ ও তুলনা করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরও এনার্জি ট্রানজিশন ইনডেক্স (ইটিআই)-২০২৬ প্রকাশ করেছে। ৪৪টি সূচক ব্যবহার করে ১২০টির দেশের বর্তমান জ্বালানি ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দেশগুলোর প্রস্তুতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। এ ইনডেক্সে কোনো দেশের জ্বালানি ব্যবস্থার কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়েছে তিনটি ক্ষেত্রে—ন্যায্যতা, স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা। একটি দেশের ইটিআই স্কোর দুটি উপসূচকের সমন্বয়ে নির্ধারিত হয়। এর মধ্যে জ্বালানি ব্যবস্থার কার্যকারিতার গুরুত্ব ৬০ শতাংশ এবং জ্বালানি রূপান্তরের প্রস্তুতির গুরুত্ব ৪০ শতাংশ।
ইটিআই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১২০টি দেশের মধ্যে ৯৯তম। এবারের এ ইনডেক্সে কোনো দেশের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। প্রথমত, সিস্টেম পারফরম্যান্স (এসপি), দ্বিতীয়ত, ট্রানজিশন রেডিনেস (টিআর)।
এসপি স্কোরে মূল্যায়ন হয়েছে বর্তমান জ্বালানি ব্যবস্থার কার্যকারিতা। যেখানে তিনটি বিষয় রয়েছে—জ্বালানির নিরাপত্তা, সাশ্রয়ী প্রাপ্যতা ও ন্যায্যতা এবং টেকসইতা। এতে মোট স্কোর ১০০। সিস্টেম পারফরম্যান্সে বাংলাদেশের স্কোর ৬৩ দশমিক ৩।
অন্যদিকে ট্রানজিশন রেডিনেস (টিআর) হচ্ছে ভবিষ্যতে জ্বালানি রূপান্তর এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে কোন দেশ কতটা প্রস্তুত। সে ক্ষেত্রে পাঁচটি বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে—নীতি ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার, অর্থায়ন ও বিনিয়োগ, অবকাঠামো, উদ্ভাবন এবং শিক্ষা ও মানবসম্পদ। টিআর প্যারামিটারে বাংলাদেশের স্কোর ৩০ দশমিক ৫।
জ্বালানি বিশ্লেষকরা বলছেন, টিআর প্যারামিটারে বাংলাদেশের স্কোর পিছিয়ে থাকার কারণ মূলত নবায়নযোগ্য খাতে লক্ষ্যমাত্রার ঘোষণা দিয়েও তা পূরণে ব্যর্থতা। এখানে অর্থায়ন, সরকারে জমি অধিগ্রহণ, প্রযুক্তিসহ নানা বিষয় রয়েছে, যেগুলোর প্রস্তুতি অতীতে সঠিকভাবে নেয়া যায়নি।
বৈশ্বিক জ্বালানির বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালিসিস (আইইইএফএ) বাংলাদেশের প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম মনে করেন, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে এনার্জি ট্রানজিশন ইনডেক্সে প্রধান দুটি প্যারামিটার বিবেচনায় নেয়া হয়। বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকার কারণ মূলত ট্রানজিশন রেডিনেসে এগোতে না পারা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকা। সেটা আর্থিক বা কারিগরি বিভিন্ন বিষয়ে হতে পারে।
তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নবায়নযোগ্য খাত এগিয়ে নিতে হলে সরকার যে প্রোগ্রামগুলো নিচ্ছে, তা সময়মতো বাস্তবায়ন ও মনিটরিং করতে হবে। এ খাতে আগামী দিনগুলোয় প্রস্তুতির একটি বড় জায়গা হলো গ্রিডকে আধুনিকায়ন করা। সরকার নবায়নযোগ্য বিদ্যুতে এখন বছরভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা আগে ছিল না। আগে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে উচ্চ শুল্ক ছিল। এখন তা ১ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। ছয় মাসের জন্য এ শুল্কছাড় দেয়া হয়েছে। তবে এ সময়সীমা আরো বৃদ্ধি প্রয়োজন। এগুলো করা গেলে এনার্জি ট্রানজিশনে বৈশ্বিকভাবে বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাবে।’
দেশে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ খাত এগিয়ে নিতে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পতিত আওয়ামী লীগ সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়। যার মধ্যে ২০১৫ সালের মোট বিদ্যুৎ সক্ষমতার ৫ শতাংশ এবং ২০২০ সালের মধ্যে ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করে। যদিও তারা সে লক্ষ্য অর্জন করতে ব্যর্থ হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সে সময় নীতিমালা, রোডম্যাপ, সরকারি-বেসরকারি সহায়তা, প্রণোদনা, প্রযুক্তির নানা সংকট ছিল। ফলে লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হলেও তা পূরণ করা যায়নি। এছাড়া জমির স্বল্পতা এবং কুইক রেন্টাল ও কয়লাবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাধান্য দেয়াকে এ খাতের পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন তারা।
২০২৪ সালে ক্ষমতার পালাবদলে দেশের দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। সে সরকার বিশেষ আইনের অধীনে আগের আমলে অনুমোদিত ৩১টি নবায়নযোগ্য ও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করে। জ্বালানি রূপান্তর ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়ার ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্তকে বড় কারণ বলে মনে করেন খাতসংশ্লিষ্টরা। এসব প্রকল্প বাতিল করা না হলে বিদেশী বিনিয়োগ ও এ খাতের অনেক কেন্দ্র এতদিনে উৎপাদনে আসত। সেই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে সরকার যে জ্বালানি সংকটে পড়েছে তাও অনেকটা সহনীয় হতো বলে মনে করেন তারা।
টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের সক্ষমতা ১ হাজার ৮১৬ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুতের হিস্যা ৮৩ শতাংশ। অর্থাৎ শুধু সৌরবিদ্যুৎ থেকে উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৫২৩ মেগাওয়াট। গ্রিডে বর্তমানে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের হিস্যা ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ। নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সক্ষমতার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশে সৌরবিদ্যুতের বাইরে বায়ুবিদ্যুতের সেই অর্থে কোনো অংশগ্রহণ নেই। আর জলবিদ্যুৎ বলতে ২৩০ মেগাওয়াট সক্ষমতা। সেটিও অনেক আগের ও পুরনো।
দেশে নবায়নযোগ্য খাতে ২০৩০ সালের মধ্যে বর্তমান সরকারের লক্ষ্য ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা। এজন্য বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, ব্যাটারি ও প্রয়োজনীয় উপকরণের ওপর শুল্ক ১%-এ নামিয়ে এনেছে সরকার। সেই সঙ্গে এ খাতে বিনিয়োগকারীদের ২০৩০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন হারে কর রেয়াত প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
পরিবেশবান্ধব, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং জনবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থা গড়তে কৌশলগত উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে অলাভজনক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘অ্যাকশন এইড’। জ্বালানি রূপান্তর নিয়ে সংস্থাটির একটি প্রোগ্রাম ‘জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন’। প্রোগ্রামের প্রধান আবুল কালাম আজাদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জ্বালানি রূপান্তর করা যে জরুরি সেটি বিভিন্ন সময় আমি বা আমরা বলে আসছি। আজকের বৈশ্বিক পরিস্থিতি ভবিষ্যতে হয়তো স্থিতিশীল হবে। জ্বালানিও হয়তো সহজলভ্য হবে, কিন্তু দাম কমবে কি? সেটিই বড় প্রশ্ন। আমরা জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়েছি। অন্যদিকে নবায়নযোগ্য খাতকে আড়ালে রেখেছি। এখন হয়তো সংকটটা প্রকট হয়েছে, তাই বিষয়টি নিয়ে কথা বলছি।’
বর্তমান সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা ১০ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট নির্ধারণ করেছে। ২০৩০ সাল নাগাদ এ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে বিনিয়োগকারী ও ভোক্তাস্বার্থের বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। সরকার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে শুল্কহার ছয় মাসের জন্য ১ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। কিন্তু ছয় মাস পর এ শুল্কহার কত হবে, সেই বিষয়টি পরিষ্কার নয়। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে এসব বিষয় আরো অনুমানযোগ্য ও অনুকূল হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
দেশে জ্বালানি রূপান্তর বিশেষত নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে কারখানায় ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন করছে অনেক কোম্পানি। এক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করে আরো বেশকিছু নীতিছাড় ও অবকাঠামোগত সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন বেসরকারি উদ্যোক্তারা।
শিল্প উদ্যোক্তা ও ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জ্বালানি রূপান্তরের বড় একটি অংশ এখন নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ। সৌরবিদ্যুতে বেসরকারি খাতও এগিয়ে এসেছে। বিস্তৃত আকারে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারের দায়িত্ব সৌরবিদ্যুতের প্রকল্প এলাকা পর্যন্ত সাবস্টেশন-ট্রান্সমিশন লাইন তৈরি করে দেয়া। সেই সঙ্গে ট্যারিফ ফিক্সড করে দেয়া এবং জায়গা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা। ওমেরা এরই মধ্যে ১০০ মেগাওয়াট রুফটপ সোলার ইনস্টল করেছে। সোলার প্যানেল বানিয়ে বিদেশে রফতানি করছে। সরকার নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনা দিচ্ছে। এ খাতে দক্ষতা ও সক্ষমতা অর্জন করতে হলে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এতে এনার্জি ট্রানজিশনেও বাংলাদেশ বৈশ্বিকভাবে আরো এগিয়ে যেতে পারবে।’
সরকার বর্তমানে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতে যে উদ্যোগ নিয়েছে সেখানে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাকে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন স্রেডার সাবেক চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দিন। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিশেষত বেসরকারি খাত প্রস্তুত কিনা, সরকারের যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের পর্যাপ্ত দক্ষতা রয়েছে কিনা সেটা বিবেচনার বিষয়। এর আগে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবায়ন করা যায়নি। এখন বছরভিত্তিক পরিকল্পনা করা হয়েছে, কোন খাত থেকে কতটুকু পরিচ্ছন্ন জ্বালানি আসবে তা নির্ধারণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি এ খাতে যারা কাজ করবেন তাদের আগ্রহ থাকতে হবে।’
নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের প্রসারে কারিগরি সহায়তায় কাজ করছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা স্রেডা। জানতে চাইলে স্রেডার চেয়ারম্যান মোজাফফর আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নবায়নযোগ্য খাতে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এখন রুফটপ সোলার (ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ)। এ কর্মসূচির মাধ্যমে কীভাবে নবায়নযোগ্য খাতকে আরো এগিয়ে নেয়া যায় সে বিষয়ে বেশি কাজ করা প্রয়োজন। এরই মধ্যে সরকার জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০) প্রণয়ন করেছে। এক্ষেত্রে ১৬-১৭টি প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে কাজ করছে।’
দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে স্রেডার ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নবায়নযোগ্য খাতে কারিগরি সহায়তাসহ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিসেবে স্রেডার যেসব কাজ রয়েছে, সেগুলো দক্ষতার সঙ্গে করা হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলংকা নবায়নযোগ্য খাতে অনেক এগিয়ে গেছে। আমরা পিছিয়ে পড়েছি। আমাদের লক্ষ্য এখন সরকার ঘোষিত নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগকে উৎসাহ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করা।’
