দুই পুলিশ সদস্যের ভারতে চলে যাওয়ার ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান পরিচালনার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে সমন্বয় করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিজিবির কুমিল্লা সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রকিবুল হাসান।
তিনি বলেন, সীমান্ত একটি স্পর্শকাতর এলাকা। তাই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা জরুরি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চৌদ্দগ্রাম বাজার সার্বজনীন কালীমন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্রাহ্মণপাড়ার শশীদল সীমান্ত দিয়ে দুই পুলিশ সদস্যের ভারতে চলে যাওয়ার বিষয়ে কর্নেল রকিবুল হাসান জানান, শশীদল থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ভুলক্রমে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে চলে যান। বিষয়টি জানার পরপরই বিজিবির পক্ষ থেকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। দুই দেশের কমান্ডিং অফিসার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে দুই পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতে অবস্থানরত দুই পুলিশ সদস্যকে মাদক কারবারিরা শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছে বলে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, এ ধরনের কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত তার কাছে নেই। দুই পুলিশ সদস্যকে দেশে ফিরিয়ে আনার পর তাদের কাছ থেকে বিষয়টি জানা যাবে। তাদের ওপর নির্যাতন বা অন্য কোনো আইনবিরোধী আচরণের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতিবাদ জানানো হবে। পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনের ঝুঁকি তুলে ধরে বিজিবির এই সেক্টর কমান্ডার বলেন, অনেক স্থানে সীমান্তের সীমানা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত না থাকায় কিংবা রাতে অবস্থান শনাক্ত করতে অসুবিধা হওয়ায় ভুলক্রমে সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনা ঘটতে পারে। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান পরিচালনা ও দায়িত্ব পালনের আগে বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করা প্রয়োজন। সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করলে এ ধরনের ঘটনার আশঙ্কা অনেক কমে আসে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যেকোনো সদস্যের সীমান্ত এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা নেই। তবে, সীমান্তের স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা জরুরি। শশীদল সীমান্তে দুই পুলিশ সদস্যের ভারতে চলে যাওয়ার ঘটনায় আগে থেকে বিজিবির সঙ্গে কোনো সমন্বয় করা হয়নি। ভবিষ্যতে এ ধরনের সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আশাবাড়ি সীমান্ত এলাকায় মাদক উদ্ধারের অভিযানে গিয়ে ভারতীয় সীমান্তে প্রবেশের পর বিএসএফের হাতে আটক হন পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইমরান ও কনস্টেবল রোহিত।
শশীদল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফারুক হোসেন জানান, মাদক উদ্ধারের কাজে ওই দুই পুলিশ সদস্য সীমান্ত এলাকায় যান। এ সময় নতুন কনস্টেবল রোহিত রাস্তা চিনতে না পেরে এক মাদক কারবারির বাড়ির দিকে ধাওয়া করতে গিয়ে ভারতীয় সীমান্তের ২০৫৯ নম্বর পিলার এলাকায় প্রবেশ করেন। পরে তারা বিএসএফের হাতে আটক হন।
