Published on
:
2 min read
মেয়েদের ভালো থাকা ও ভালো রাখার জন্য লড়াই শুরু করেছিলেন হাওড়ার বাগনানের বাসিন্দা মাধুরী ঘোষ। পেশায় বাগনান প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। মহিলাদের স্বনির্ভর হওয়ার জন্য উৎসাহ দিতেন তিনি। তিলে তিলে তৈরি করেছিলেন স্বনির্ভর গোষ্ঠী। ৩৩ বছরের তাঁর নিরলস চেষ্টায় সেই স্বনির্ভর গোষ্ঠী কার্যত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। হাজার হাজার মেয়ের হাতে কাজের ব্যবস্থা করেছেন তিনি। বার্ধক্যজনিত কারণে বুধবার মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া বাগনানে।
নয়ের দশকে রাজ্যে স্বাক্ষরতা অভিযান শুরু হয়েছিল। জানা গিয়েছে, ১৯৯৩ সালে মেয়েদের অক্ষর জ্ঞান শেখানোর লক্ষ্যে এই স্বাক্ষরতা অভিযানের মাধ্যমে লড়াই শুরু করেছিলেন মাধুরী। প্রত্যেক মহিলাকে বুঝিয়ে ছিলেন শিক্ষার পাশাপাশি উপার্জন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯৫ সালে সেই লক্ষ্য নিয়ে বাগনান-১ ব্লকের বিভিন্ন গ্রামের মহিলাদের নিয়ে স্বনির্ভর দল গঠনের কাজ শুরু করেন তিনি। মাধুরী ঘোষের নেতৃত্বে তৈরি হয় বাগনান-১ মহিলা বিকাশ কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটি লিমিটেড। ৫৮৯ জন সদস্যাকে নিয়ে শুরু হয় এই সমবায় সমিতি।
প্রথমে মাত্র ১০ টাকা দিয়ে একটি পাশ বই খুলে মাধুরী শুরু করেছিলেন সমিতি। বর্তমানে সেই সদস্য সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। মাসে সদস্যাদের গড় উপার্জন ৫০০০ টাকা। এর পর ১৯৯৬ সালে শুরু করেন উৎপাদন ও বিপণনের কাজ। এলাকায় এই প্রক্রিয়া 'আপনা বাজার' নামে পরিচিতি লাভ করে। মহিলারা নিজের হাতে বানানো শুরু করেন, আচার, মোমবাতি ও সাবান-সহ নানান দৈনন্দিন সামগ্রী। এখানে বিভিন্ন জিনিস যেমন স্বনির্ভর দলের সদস্যরা তৈরি করছেন, তেমনই কিনছেনও স্বনির্ভর দলের সদস্যরাই।
২০১৭ সালে মাধুরী আরও একটি সমবায় গঠন করেন, যাঁর নাম দেন বাগনান-১ মহিলা বিকাশ কনজিউমার কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড। এই প্রতিষ্ঠানও বেশ জনপ্রিয় বাগনান এলাকায়। এই সমবায়ের মূল উদ্দেশ্য হলো স্বনির্ভর দলের উৎপাদিত ওই দ্রব্যগুলি প্রতিটি সদস্যার বাড়ি পৌঁছে দেওয়া। মাধুরীর তৈরি করা এই সমবায় সমিতি ৫ বার পশ্চিমবঙ্গের সেরা মহিলা কো- অপারেটিভের সম্মান পেয়েছে। NCDC-র তরফে (National Cooperative Development Corporation) এই সমবায়কে ৩ বার সেরার সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে।
