এর আগে গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়ার রেললাইন-সংলগ্ন এলাকায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েন ইশরাক হোসেন। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই নির্দেশনার পর সোমবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। বিএনপি সরকারের আট মাসের মাথায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেন, তিনি যে এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়েছিলেন, সেটি মাদক সরবরাহ ও বিতরণের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তাঁর দাবি, ওই এলাকায় মাদক কারবারিদের অর্থ ও অস্ত্র রয়েছে এবং পুলিশ সেখানে যেতে চায় না।
অভিযানে তাঁর হাতে থাকা অস্ত্র প্রসঙ্গে ইশরাক বলেন, অস্ত্রটি বৈধ এবং নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু সময়ের জন্য তিনি সেটি হাতে নিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল এবং তাঁরা কখন সেখানে আসবেন, সে সম্পর্কেও অবহিত করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, এলাকায় প্রবেশের পর ২৫ থেকে ৩০ জনকে ছোটাছুটি করতে দেখেন এবং একদল লোক তাঁদের দিকে এগিয়ে আসে। ওই পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য তিনি অস্ত্রটি হাতে রাখেন বলে দাবি করেন।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইশরাক বলেন, তিনি সেখানে জমি দখল বা চাঁদাবাজি করতে যাননি; মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতেই গিয়েছিলেন। কিন্তু ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম থেকে মানুষের দৃষ্টি সরে গেছে বলে তিনি মনে করেন।
ভাইরাল ভিডিওর কারণে তাঁর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও দলের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে দাবি করে ইশরাক জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে নিজেই পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
ফেসবুক পোস্টেও পদত্যাগের ঘোষণা, সোমবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা জানান ইশরাক। পোস্টে তিনি সমালোচকদের উদ্দেশে মন্তব্য করেন এবং ভবিষ্যতে আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশে ফিরে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
একই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিমন্ত্রী বা সংসদ সদস্য হিসেবে নয়, বরং বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে আরও বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করবেন। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে বিভিন্ন জেলা সফরের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পোস্টের শেষে ইশরাক লেখেন, ‘মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল! মাদক নির্মূল, মাদক নির্মূল!’
পদত্যাগ নিয়ে আগের রাতেই গুঞ্জন, এর আগে রোববার রাতে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে সে সময় প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ-সংক্রান্ত তথ্যকে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করা হয়েছিল।
সর্বশেষ সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন ইশরাক হোসেন। তবে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পরও মাদকের বিরুদ্ধে তাঁর কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।
সম্পাদনা-সংক্রান্ত নোট: প্রতিবেদনটি আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। প্রকাশের আগে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের নির্দেশ, পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পদ-পদবির তথ্য নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যাচাই করে নেওয়া ভালো।
The post শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ইশরাক appeared first on ভোরের চেতনা.
