কালবেলা · সাধারণ
মহিলা সমিতির মঞ্চে সরকারি প্রণোদনা পুনর্বহালের দাবি ১০১ নাট্যব্যক্তিত্বের
২৫/১০/২০২৬

রাজধানীর বেইলি রোডের নাটক সরণির বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে নাটক মঞ্চায়নের জন্য সরকারি প্রণোদনা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন ১০১ জন নাট্যব্যক্তিত্ব।
তাদের অভিযোগ, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভর্তুকি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মিলনায়তনে নাটক মঞ্চায়নের ব্যয় বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। এতে আর্থিক চাপে পড়েছে নাট্যদলগুলো, কমেছে এই ঐতিহ্যবাহী মঞ্চে নাটক মঞ্চায়নের আগ্রহও।
দেশের নাট্যচর্চার বিকাশ ও ঐতিহ্য রক্ষায় দ্রুত সরকারি প্রণোদনা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন তারা। রোববার (২৫ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, আগে মহিলা সমিতির মিলনায়তনে এক শিফটে নাটক মঞ্চায়নের জন্য ভাড়া দিতে হতো ৫ হাজার টাকা। কিন্তু গত জানুয়ারি থেকে একই শিফটের জন্য নাট্যদলগুলোকে গুনতে হচ্ছে ১১ হাজার ৫০০ টাকা। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভর্তুকি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই ব্যয় বেড়েছে। এতে আর্থিক সংকটে পড়ছেন নাট্যকর্মীরা। টিকিট বিক্রির আয় দিয়ে প্রদর্শনীর খরচ তুলে আনাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিবৃতিদাতারা বলেন, মহিলা সমিতির মঞ্চে নাট্যচর্চা অব্যাহত রাখতে দ্রুত সরকারি ভর্তুকি পুনর্বহাল করা প্রয়োজন। দেশের নাট্যচর্চার সৃজনশীল বিকাশ অব্যাহত রাখতে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
বিবৃতিতে মহিলা সমিতির মঞ্চের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলা হয়, ১৯৭৩ সালে এই মঞ্চ থেকেই বাংলাদেশে টিকিট কেটে নাটক দেখার সংস্কৃতির সূচনা হয়। নাট্যদলগুলোর কর্মচাঞ্চল্যে মুখর এই সড়কের নাম ২০০৫ সালের ২৬ আগস্ট তৎকালীন মেয়র সাদেক হোসেন খোকা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নাটক সরণি’ রাখেন।
স্বাধীন বাংলাদেশের শিল্পচর্চায় মহিলা সমিতির এই মঞ্চের গুরুত্ব অপরিসীম। অথচ মিলনায়তন ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় অনেক নাট্যদল এখানে নাটক মঞ্চায়নে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০১৭ সালের জুনে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ খাতে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া শুরু হয়। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে আর কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
বিবৃতিদাতারা জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে নাটক মঞ্চায়নের জন্য সরকারি অনুদান চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। প্রতি মাসে ২০টি প্রদর্শনীর জন্য প্রতিটির বিপরীতে ৬ হাজার ৫০০ টাকা হিসাবে ১১ মাসের জন্য মোট ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে।
বিবৃতিতে দুটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়। প্রথমত, মহিলা সমিতির মিলনায়তনে নাটক মঞ্চায়নের জন্য প্রতি মাসে ২০টি প্রদর্শনীর হিসাবে ১১ মাসের জন্য চাওয়া ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকার সরকারি প্রণোদনা অবিলম্বে পুনর্বহাল করতে হবে। দ্বিতীয়ত, নাট্যদলগুলোর আর্থিক চাপ কমাতে নাট্যচর্চার সামগ্রিক প্রণোদনার অর্থের পরিমাণ বাড়াতে হবে এবং নিয়মিত বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।
বিবৃতিদাতাদের পক্ষে স্বাক্ষর করেন ‘ক্ষ্যাপা’ থিয়েটারবিষয়ক পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক অপু মেহেদী।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী ১০১ জন নাট্যব্যক্তিত্ব হলেন নাট্যনির্দেশক ও শিক্ষক সৈয়দ জামিল আহমেদ; অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশক সারা যাকের; নাট্যজন অধ্যাপক আব্দুস সেলিম; নাট্যশিল্পী কামাল হোসেন; নাট্যকার ও নির্দেশক মাসুম রেজা; নাট্যকার, নির্দেশক ও অভিনয়শিল্পী মামুনুর রশীদ; নির্দেশক ও অভিনয়শিল্পী মোহাম্মদ আলী হায়দার; নির্দেশক ও শিক্ষক কামালউদ্দিন কবির; সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার; নাট্যকার ও নির্দেশক অলোক বসু; নির্দেশক ও শিক্ষক ইউসুফ হাসান অর্ক; অভিনয়শিল্পী ফেরদৌসী মজুমদার; নাট্যকার, নির্দেশক ও অভিনয়শিল্পী হারুন রশীদ; আলোক নির্দেশক ঠান্ডু রায়হান; নাট্যকার ও গবেষক রতন সিদ্দিকী; নির্দেশক আহমেদ ইকবাল হায়দার; অভিনয়শিল্পী ও প্রশিক্ষক শামীমা শওকত লাভলী; অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশক ত্রপা মজুমদার; অভিনয়শিল্পী শামীম জামান; সংগঠক ও নির্দেশক আক্তারুজ্জামান; অভিনয়শিল্পী কামরুল হাসান; অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশক সাইফুল জার্নাল; অভিনয়শিল্পী ফজলুর রহমান বাবু; অভিনয়শিল্পী জ্যোতি সিনহা; অভিনয়শিল্পী হুমায়ুন আজম রেওয়াজ; অভিনয়শিল্পী মো. শরীফ হাসান চৌধুরী (সউদ); অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশক হামিদুর রহমান পাপ্পু; অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশক অনন্ত হিরা; অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশক জয়িতা মহলানবিশ; নাট্যকার ও নির্দেশক বাকার বকুল; থিয়েটার ডিজাইনার ওয়াসিম আহমেদ; নাট্যকার ও নির্দেশক শুভাশিস সিনহা; অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশক সৈয়দা শামছি আরা সায়েকা; অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশক শুভাশিস দত্ত তন্ময়; নির্দেশক তোসাদ্দেক হোসাইন মান্না; অভিনয়শিল্পী কাজী রুখসানা রুমা; অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশক কাজী রাকিব; অভিনয়শিল্পী আবু আজাদ; নির্দেশক ও শিক্ষক আশিকুর রহমান লিয়ন; নাট্যকার ও নির্দেশক রূবাইয়াৎ আহমেদ; অভিনয়শিল্পী নাহিদ স্মৃতি; নাট্যকার ও নির্দেশক শামীম সাগর; অভিনয়শিল্পী আপন আহসান; নাট্যকার ও নির্দেশক মলয় ভৌমিক; নাট্যকার অপু মেহেদী; নাট্যকার রুমা মোদক; অভিনয়শিল্পী শাহজাদা সম্রাট চৌধুরী; অভিনয়শিল্পী ও শিক্ষক মোহসিনা আক্তার; অভিনয়শিল্পী সামিউন জাহান দোলা; অভিনেতা ও চিত্রশিল্পী চারু পিন্টু; অভিনয়শিল্পী মাহফুজ সুমন; অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশক নূনা আফরোজ; অভিনয়শিল্পী শতাব্দী ওয়াদুদ; অভিনয়শিল্পী ও সংগঠক মীর জাহিদ হাসান; নাট্যশিক্ষক মামুন রেজা সৈয়দ; নাট্যশিক্ষক হাবিব জাকারিয়া উল্লাস; নাট্যশিল্পী ও সম্পাদক পাভেল রহমান; নাট্যনির্দেশক জাহিদ রিপন; নাট্যশিক্ষক ভাস্বর বন্দোপাধ্যায়; অভিনয়শিল্পী নাজনীন হাসান চুমকী; অভিনেতা ও নির্দেশক তৌফিকুল ইসলাম ইমন; অভিনয়শিল্পী জগন্ময় পাল; অভিনয়শিল্পী পারভীন পারু; অভিনয়শিল্পী সোহেল মন্ডল; নাট্যশিক্ষক ক্যাথরিন পিউরিফিকেশন; নাট্যশিক্ষক শহীদুল মামুন; গবেষক ও সংগঠক ড. বাবুল বিশ্বাস; নাট্যকার ও শিক্ষক আনন জামান; অভিনয়শিল্পী গোলাম শাহরিয়ার সিক্ত; অভিনেতা, নাট্যকার ও নির্দেশক আজাদ আবুল কালাম; অভিনয়শিল্পী রোজী সিদ্দিকী; অভিনয়শিল্পী শাহেদ আলী; নাট্যশিল্পী খোরশেদুল আলম; নাট্যজন অধ্যাপক শফি আহমেদ; নাট্যশিক্ষক আরিফ হায়দার; নাট্যনির্দেশক ও শিক্ষক সাইদুর রহমান লিপন; অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশক মোহাম্মদ বারী; অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশক মারুফ কবির; অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশক শহীদুজ্জামান সেলিম; নাট্যনির্দেশক খন্দকার রাকিবুল হক; অভিনয়শিল্পী এম এস রানা; অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশক সাইফ সুমন; নাট্যশিক্ষক সুবীর মহাজন; নাট্যনির্দেশক ও শিক্ষক অসীম দাশ; নাট্যশিক্ষক তামান্না হক সিগমা; শিক্ষক ও নাট্যকর্মী সামিনা লুৎফা; নির্দেশক ও শিক্ষক রেজা আরিফ; নাট্যশিক্ষক ও সম্পাদক রহমান রাজু; নির্দেশক ও শিক্ষক তানভীর নাহিদ খান; অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশক শামীমা আক্তার মুক্তা; অভিনয়শিল্পী কাজী নওশাবা আহমেদ; অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশক আমিনুর রহমান মুকুল; আলোক নির্দেশক অম্লান বিশ্বাস; নাট্যশিক্ষক মাজহারুল ইসলাম তোকদার; অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশক মুস্তাফিজ শাহীন; নাট্যনির্দেশক ও শিক্ষক কুন্তল বড়ুয়া; নাট্যশিল্পী শাহনাজ জাহান; অভিনয়শিল্পী শাখাওয়াত হোসেন শিমুল; অভিনেতা ও নির্দেশক সাজ্জাদ সাব্বির; নাট্যকার শরণ এহসান এবং অভিনয়শিল্পী ফারুক আহমেদ।
দেশের নাট্যচর্চা ও নাট্য-ঐতিহ্যের স্বার্থে এই দাবি বিবেচনা করে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে প্রত্যাশা জানিয়েছেন বিবৃতিদাতারা।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗