নোয়াখালীর চাটখিলে ইতালি নেওয়ার প্রলোভনে লিবিয়ায় জিম্মি করে নির্যাতন, কয়েক দফায় ২৫ লাখ টাকা আদায় এবং দেশে ফেরার পর অস্ত্র দিয়ে হামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী মো. সোলায়মানের পরিবারের অভিযোগ, মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা তাকে বিদেশে নির্যাতনের পর দেশে ফিরেও হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্বজনেরা।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাটখিল উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের শংকুর গ্রামে সোলায়মানের নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস, বোন মোবাশারা বেগম সোহাগী ও মেয়ে নাবিলা সুলতানা নোভা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জান্নাতুল ফেরদৌস অভিযোগ করেন, ইতালি নেওয়ার কথা বলে ২০২৩ সালে তার স্বামীকে লিবিয়ায় আটকে রাখেন স্থানীয় আজাদ। শাহপরানের যোগসাজশে প্রবাসী ফারুক ও তার সহযোগীরা সোলায়মানকে জিম্মি করে নির্যাতন চালান। এ সময় কয়েক দফায় তার কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়।
তিনি জানান, পরে অন্য মাধ্যমে ইতালি গিয়ে গত মাসে দেশে ফেরেন সোলায়মান। কিন্তু দেশে ফেরার পরও তার ওপর হামলা চালানো হয়। গত ২৯ আগস্ট সন্ধ্যায় খিলপাড়া বাজারের যুবরত্ন ক্লাবের সামনে অস্ত্র দিয়ে তার স্বামীকে হামলা ও নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় সোলায়মানের স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি চাঁদা দাবি করা হয়।
জান্নাতুল ফেরদৌসের দাবি, হামলার পর প্রাণভয়ে সোলায়মান আবার ইতালি চলে যেতে বাধ্য হন। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান তারা।
পরিবারের করা মামলায় আজাদ নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে অভিযুক্ত শাহপরানের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোন্নাফ বলেন, প্রবাসীর ওপর হামলা, চাঁদা দাবি এবং ২০২৩ সালে বিদেশে আটকে রেখে টাকা আদায়ের ঘটনায় মানবপাচার আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। মামলার আসামিদের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চার আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন এবং আরেক আসামি আত্মগোপনে রয়েছেন। তদন্ত করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
