ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপূজামণ্ডপে এ দুর্ঘটনায় আরও ২৫ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তারা।
ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যে মণ্ডপে প্রবেশের জন্য দর্শনার্থীদের হুড়োহুড়ি থেকে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ১৭ জনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত ঘোষণা করা হয়। আহত ব্যক্তিদের কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পর তিনি হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন।
মুখ্যমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ের কাছে চোরবাগান এলাকায় একটি সর্বজনীন দুর্গাপূজার আয়োজকদের ঘোষণার পর দর্শনার্থীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বৃষ্টি শুরু হলে মণ্ডপের বাইরে অপেক্ষায় থাকা দর্শনার্থীরা সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় কয়েকজন সড়কে পড়ে গেলে পদদলনের ঘটনা ঘটে।
কলকাতা পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে গিরিশ পার্ক থানার আওতাধীন সারদা পার্কের চোরবাগান পূজামণ্ডপের প্রবেশপথে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে পদদলনের ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য, দমকল বাহিনী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্য এবং চিকিৎসক দলসহ অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়। দর্শনার্থীদের জন্য পূজামণ্ডপটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৫ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, কয়েকজন দর্শনার্থীর অভিযোগ, কলকাতা পুলিশের পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
দুর্ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গ সরকার একটি টোল-ফ্রি হেল্পলাইন চালু করেছে। এ ঘটনা সম্পর্কে তথ্য জানতে নির্ধারিত নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
কলকাতার এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে প্রত্যেক নিহতের নিকটাত্মীয়কে দুই লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের প্রত্যেককে দেওয়া হবে ৫০ হাজার রুপি।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তার কথা হয়েছে। দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (১৮ অক্টোবর) পশ্চিমবঙ্গে নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করেছেন অমিত শাহ। আহত ব্যক্তিদের দেখতে রবিবার হাসপাতালে যাওয়ার কথা রয়েছে তার।
চোরবাগানের পূজামণ্ডপে পদদলনের ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এ ঘটনায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন তিনি। একই সঙ্গে এ কঠিন সময়ে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ও শক্তি কামনা করেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কুণাল ঘোষ ঘটনাটিকে ‘দুঃখজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন। আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি হাসপাতালে অতিরিক্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী মোতায়েনের দাবি জানান।
কুণাল ঘোষ বলেন, দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণ পরে করা যাবে। এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো আহত ব্যক্তিদের জীবন বাঁচানো এবং গুরুতর আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
