নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেছে প্রায় ৯ মাস। তবু শেষ হয়নি মাগুরা-নড়াইল আঞ্চলিক মহাসড়কের বাঁক সরলীকরণ ও উন্নয়নকাজ। মাগুরা অংশের বিভিন্ন স্থানে কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা। বিশেষ করে ধলহরা থেকে শত্রুজিৎপুর বাজার ও বেরইল পলিতা এলাকার প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। কোথাও উঠে গেছে পিচ, কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বড় গর্ত। এর সঙ্গে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক। ফলে প্রতিদিন দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যানবাহনচালক ও যাত্রীদের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নকাজ ঝুলে থাকলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। জমি অধিগ্রহণের জটিলতা ও ঠিকাদার নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতার কারণে সড়কের কাজ আটকে থাকায় ভোগান্তি বাড়ছে। তাঁদের প্রশ্ন, একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কের উন্নয়নকাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ার দায় নেবে কে?
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ৪৭ কিলোমিটার সড়কের বাঁক সরলীকরণ ও উন্নয়নকাজ শুরু হয়। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ইতিমধ্যে নড়াইল অংশের কাজ শেষ হলেও মাগুরা অংশের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। ফলে সড়কটির গুরুত্বপূর্ণ অংশে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ধলহরা থেকে শত্রুজিৎপুর বাজার ও বেরইল পলিতা এলাকার বিভিন্ন স্থানে সড়কের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। গর্ত এড়িয়ে যানবাহন চালাতে গিয়ে চালকদের বেগ পেতে হচ্ছে। বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল, ভ্যান ও ইজিবাইক চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। সড়কের ঝাঁকুনিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী, প্রসূতি নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিরা।
স্থানীয়দের দাবি, সড়কটির বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও ভাঙাচোরা সড়কের কারণে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চালকদের সমস্যায় পড়তে হয়। দ্রুত সংস্কার করা না হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
এক বাসচালক বলেন, এই সড়কে আমরা নিয়মিত যাত্রী নিয়ে চলাচল করি। রাস্তার অবস্থা এত খারাপ যে গাড়ি চালাতে অনেক সমস্যা হয়। যাত্রী নিয়ে চলাচলের সময় সব সময় সতর্ক থাকতে হয়।
রিকশাচালক মো. আইনুদ্দিন বলেন, আমি প্রতিদিন রিকশা নিয়ে এই সড়কে চলাচল করি। অনেক সময় যাত্রী নিয়ে যেতে গিয়ে রিকশা উল্টে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। রাস্তার কারণে আমাদের অনেক কষ্ট হয়।
ইজিবাইকচালক হেলাল রহমান বলেন, এই সড়কে ইজিবাইক নিয়ে চলাচল করতে কতটা সমস্যা হয়, তা বলে বোঝানো যাবে না। যাত্রীদেরও অনেক কষ্ট হয়। রাস্তার গর্তের কারণে ইজিবাইক উল্টে দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা প্রায়ই এই সড়কে দুর্ঘটনা ঘটতে দেখি। রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হয়, সাধারণ মানুষও দুর্ভোগ পোহান। আমরা চাই, দ্রুত সড়কটির সংস্কার ও বাঁক সরলীকরণের কাজ শেষ করা হোক।
সড়কের কাজ অসম্পূর্ণ থাকার পেছনে জমি অধিগ্রহণের জটিলতার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বাকি অংশের কাজ শুরু করতে নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, জমি অধিগ্রহণ ও ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ হতে আর কত দিন লাগবে? কবে তাঁরা নিরাপদ সড়কে চলাচল করতে পারবেন? এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় তাঁদের অনিশ্চয়তা কাটছে না।
এ বিষয়ে মাগুরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কায়সার হামিদ বলেন, জমি অধিগ্রহণসহ সড়কের বাকি অংশের কাজ শুরুর জন্য নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে। বাকি কাজ যাতে দ্রুত সম্পন্ন করা যায়, সে জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কের উন্নয়নকাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় দীর্ঘায়িত হচ্ছে জনদুর্ভোগ। অথচ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যাতায়াতে সময় বাড়ছে, বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জমি অধিগ্রহণের জটিলতা দ্রুত নিরসন করে বাকি অংশের কাজ শুরু করতে হবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও খানাখন্দে ভরা অংশগুলো জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করতে হবে।
কবে শেষ হবে এই সড়কের কাজ, তার স্পষ্ট জবাব চান ভুক্তভোগীরা। তাদের মতে, মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো বা নতুন ঠিকাদার নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার মধ্যেই দায়িত্ব সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। সড়কটি নিরাপদ ও চলাচল উপযোগী করতে দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে।
যে আই
