কালবেলা · দেশ
রাজশাহীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নিশ্চিতের নির্দেশ
১৯/১০/২০২৬

রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের কম উপস্থিতি এবং কিন্ডারগার্টেনমুখী প্রবণতা নিয়ে জাতীয় দৈনিক কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ।
নগরীর বোয়ালিয়া থানা এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে প্রথম পিরিয়ডের পরই তার বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নেওয়া এবং নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বোয়ালিয়া থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদান শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শিখন কার্যক্রমের মানোন্নয়ন এবং শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ নিশ্চিত করতে চিঠিতে একাধিক নির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে।
এর আগে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম থাকা এবং বিপরীতে বেসরকারি বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনে ভর্তির চাহিদা বাড়ার চিত্র তুলে ধরে কালবেলায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদে সরকারি বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থী উপস্থিতি শিক্ষার পরিবেশ পাঠদানের পদ্ধতি এবং অভিভাবকদের আস্থার সংকট নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামতও তুলে ধরা হয়। সংবাদ প্রকাশের পর বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বোয়ালিয়া থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলে প্রথম পিরিয়ডের পর প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট শ্রেণিশিক্ষককে তার বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিতে হবে। শিক্ষার্থী কেন বিদ্যালয়ে আসেনি, তা জানার পাশাপাশি নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।
শুধু উপস্থিতি নিশ্চিত করাই নয়, প্রতিদিনের পাঠ পরিকল্পনা অনুযায়ী শ্রেণিকক্ষে পাঠদান পরিচালনার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাঠদানের সময় প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও ব্ল্যাকবোর্ড ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পড়া, লেখা ও গাণিতিক দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, সহকারী শিক্ষকদের পাঠদান পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি চিহ্নিত করে তা পূরণে উদ্যোগ নেওয়া, নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা এবং পাঠদানের মান পর্যবেক্ষণে প্রধান শিক্ষকদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
রাজশাহী দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষানগরী হিসেবে পরিচিত। নগরীর ঐতিহ্যবাহী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো একসময় সাধারণ মানুষের সন্তানদের শিক্ষার অন্যতম প্রধান ভরসা ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে কিছু বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে বেসরকারি বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনে সন্তানদের ভর্তি করাতে অভিভাবকদের আগ্রহ বাড়ছে।
নগরীর সিলভার জুবিলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হরিজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হোসেনীগঞ্জ বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোরহাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রেলস্টেশন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দরগাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি বিদ্যালয় সম্পর্কে অভিভাবকদের নেতিবাচক ধারণা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আগ্রহ পরিবারের কর্মব্যস্ততা এবং শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতার ঘাটতি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বিদ্যালয়ভিত্তিক ভর্তি উপস্থিতি ও ঝরে পড়ার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ এবং অভিভাবকদের মতামত যাচাইয়ের মাধ্যমে সংকটের প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
রাজশাহী বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আব্দুস সালাম বলেন, কয়েকটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম থাকার বিষয়টি জানতে পেরেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি জানান, বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও) ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি অভিভাবক সমাবেশ ও মা সমাবেশ আয়োজন, রুটিন অনুযায়ী পাঠদান, শিক্ষা উপকরণের ব্যবহার এবং অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বেসরকারি বিদ্যালয়ের পাঠদানের অনুমতি ও নিবন্ধনের বিষয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়। পরিদর্শন, যাচাই-বাছাই ও প্রতিবেদন পর্যালোচনার ভিত্তিতে অনুমতি এবং নিবন্ধন দেওয়া হয়।
বোয়ালিয়া থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিদ্যালয়ের কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালিত না হওয়ায় বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা জবাবদিহি ও শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗