সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে ইউএনও ও কৃষি কর্মকর্তার অপসারণ দাবি
01/01/1970 12:00:00
চিতলমারী প্রতিনিধি
বাগেরহাটের চিতলমারীতে সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ সব কর্মসূচি হয়। চিতলমারী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, শ্রমিক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা যৌথ ভাবে এ কর্মসূচি পালন করেন।
এ সময় তাঁরা আওয়ামী লীগ নেতাদের সার ডিলার নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিফাত আল মারুফের অপসারণের দাবি এবং অর্থের বিনিময়ে ডিলারশিপ দেওয়ার সঙ্গে দলীয় নেতাদের জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে তাঁদের বহিষ্কারের দাবি জানান। বিক্ষোভ মিছিল শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এ সময় তাঁরা সার ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিফাত আল মারুফ এবং উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য দ্জন বিএনপি নেতা এ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। দায় এড়াতে তাঁরা একে অপরের উপর দোষ চাপাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
কর্মসূচিতে অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন চিতলমারী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মোঃ নিয়ামত আলী খান, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জবরুল শেখ, শ্রমিক দলের সভাপতি শেখ ইউসুফ আলী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাজু খান, যুবদল নেতা জয়নুল পারভেজ সুমন, হিল্লোল মীর, হোসাইন বিশ্বাস ও শফিকুল ইসলামসহ স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, শ্রমিক দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এ সময় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অর্থের বিনিময়ে ডিলারশিপ দেওয়ার সঙ্গে দলীয় কিছু নেতার সম্পৃক্ততা রয়েছে। আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সহযোগিতা করে কেউ অন্যায় সুবিধা নিয়ে থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, কৃষকদের কাছে সময়মতো সার পৌঁছানো এবং ন্যায্য দামে সার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। সার ডিলার নিয়োগে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় না দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনা দরকার। আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার ও কৃষি কর্মকর্তা সিফাত আল মারুফের অপসারণ দাবি করি। দ্রুত আমাদের দাবি মেনে নেওয়া না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তাছাড়া আমরা সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযোগে জড়িত দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং দোষ প্রমাণিত হলে তাঁদের দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানাই।
চিতলমারী উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য এবং উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক শরিফুল হাসান অপু ও সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট ফজলুল হক বলেন, গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ১ টায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমাদের ফোন দিয়ে ৩ টায় মিটিং আছে বলে জানান। সেখানে গেলে তারা আমাদের নীতিমালা বের করে দেখান এবং বলেন নীতিমালার বাইরে কিছু করার নেই। আমরা আমাদের দলীয় নেতাকর্মিদের নিয়োগের কথা বললেও ইউএনও এবং কৃষি কর্মকর্তা কোন কিছুতেই নীতিমালার বাইরে যেতে রাজি হননি।
তখন আমরা তাদের কাছে অসহায় হয়ে পড়ি এবং সার ডিলারশিপ নিয়োগে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হই। তাৎক্ষণিক বিষয়টি আমরা আমাদের উর্ধতন নেতাদের জানিয়েছি।
চিতলমারী উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সিফাত আল মারুফ বলেন, সভায় তালিকা নিয়ে কথা হয়েছে। কোন নাম নিয়ে আপত্তি আসেনি। সার ডিলারশীপ নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার বলেন, যারা আবেদন করেছিলেন তাদের কাউকে আমরা চিনি না। স্থানীয় গর্ণমান্য ব্যাক্তিরা ছিলেন। তাদের সুপারিশক্রমে আমরা তালিকা করেছি। তারা যে ভাবে বলেছেন আমরা সেই ভাবে সিরিয়াল দিয়ে তালিকা করেছি।
