মোঃ হারুন অর রশিদ, শেরপুর প্রতিনিধি
সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে শেরপুর-১ (সদর) আসনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম বলেছেন, “এবারের নির্বাচনে জনগণ ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে তাদের সুস্পষ্ট রায় দিয়েছেন। এই বিজয় কোনো ব্যক্তি বা দলের একার নয়—এটি ন্যায়বিচার ও নৈতিকতার পক্ষে জনগণের সম্মিলিত অবস্থান।”
শনিবার দুপুরে শেরপুরের নওহাটা আলিয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত নির্বাচন-পরবর্তী নারী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি জানান, “আমি ১ লাখ ২৭ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছি। তবে আমি শুধু ওই ১ লাখ ২৭ হাজার ভোটারের এমপি নই—আমি এখন শেরপুর সদর আসনের প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের প্রতিনিধি। সকলের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে আমি সমানভাবে কাজ করবো।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষ ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে রায় দিয়েছে বলেই দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বিজয়ী হয়েছে। জনগণ আমাদের আদর্শ ও কর্মসূচিকে সমর্থন করেছে। আল্লাহ তায়ালার রহমতে আমরা এই বিজয় অর্জন করেছি।”
সভায় তিনি শহীদ কামারুজ্জামানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, “শহীদ কামারুজ্জামানের ঘটনা জনগণের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলেছে। সেই বেদনা ও ক্ষোভের প্রতিফলনও এবারের নির্বাচনে দেখা গেছে।”
নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য শেরপুরের সার্বিক উন্নয়নে বিভিন্ন অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, নারীদের নিরাপত্তা জোরদার এবং ইভটিজিং প্রতিরোধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি মাদক ও জুয়ামুক্ত শেরপুর গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে কুটিরশিল্পভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন এমপি রাশেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে কুটিরশিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তারা পরিবার ও সমাজে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেন।”
সদর উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মাওলানা নুরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুস সোবাহানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। তারা নবনির্বাচিত এমপিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শেরপুরের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত মহিলা দায়িত্বশীল কর্মীরাও অংশ নেন এবং নারীদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
সভা শেষে নবনির্বাচিত এমপি শেরপুরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “এই বিজয় জনগণের। আমি সকল ভেদাভেদ ভুলে শেরপুরের সার্বিক উন্নয়ন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যেতে চাই।”
