নীরবে শরীরে বাসা বাঁধে ফ্যাটি লিভার। শুরুর দিকে সাধারণত তেমন কোনো লক্ষণ দেখা না গেলেও সময়ের সঙ্গে এটি লিভারে প্রদাহ ও স্থায়ী ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এ সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। তবে সচেতন জীবনযাপন, সুষম খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। রোগটি কেন হয়, কীভাবে লক্ষণ শনাক্ত করা যায় এবং প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজনÑতা জানা জরুরি।
ফ্যাটি লিভার কী?
ফ্যাটি লিভার হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে লিভারে স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত চর্বি জমে যায়। শুরুতে এটি তেমন কোনো সমস্যা সৃষ্টি না করলেও চিকিৎসা না করালে লিভারে প্রদাহ, ফাইব্রোসিস, সিরোসিস, এমনকি লিভার বিকল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বর্তমানে অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাবের কারণে ফ্যাটি লিভারের প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে। তবে সুখবর হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক জীবনযাপন ও চিকিৎসার মাধ্যমে ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে আনা এবং অনেক ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভালো করা সম্ভব।
ফ্যাটি লিভারের কারণ
অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, রক্তে কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বেশি থাকা, অতিরিক্ত মদ্যপান, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত এবং
চিনিযুক্ত খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম না করা, খুব দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, মেটাবলিক সিনড্রোম, বংশগত কারণ।
ফ্যাটি লিভারের লক্ষণ
প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকেরই কোনো লক্ষণ থাকে না। তবে রোগের অগ্রগতির সঙ্গে দেখা দিতে পারেÑ
সব সময় ক্লান্তি বা দুর্বলতা অনুভব করা। পেটের ডান পাশের ওপরের অংশে ব্যথা বা অস্বস্তি। বমি বমি ভাব। পেট ফাঁপা। লিভার বড় হয়ে যাওয়া। গুরুতর অবস্থায় চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)।
ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধের উপায়
সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। প্রতিদিন শাকসবজি, ফলমূল, আঁশযুক্ত খাবার ও স্বাস্থ্যকর প্রোটিন গ্রহণ করুন। অতিরিক্ত চিনি, কোমল পানীয়, ফাস্ট ফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট ব্যায়াম করুন, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং অ্যালকোহল থেকে বিরত থাকুন। ঝুঁকিতে থাকলে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে লিভারের পরীক্ষা করান। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত হলে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
ডা. ইকবাল মূর্শেদ কবির
সিনিয়র কনসালট্যান্ট, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল,
লিভার ডিজিজ ও মেডিসিন,
এভারকেয়ার হাসপাতাল, ঢাকা।
