দুর্গাপুজোর মধ্যে খ্রিষ্টান পরিবারের উপর হামলা, হেনস্তা! পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা থানা এলাকার পাটলাপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। আর এহেন অভিযোগ ঘিরেই ফের বাংলার রাজনীতির ময়দানে কংগ্রেস হাইকমান্ড। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হস্তক্ষেপ দাবি করে চিঠি দিলেন এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক কে সি বেনুগোপাল। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন তিনি। শুধু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেই নয়, চিঠির প্রতিলিপি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও পাঠানো হয়েছে। এদিকে এই ইস্যুতে চন্দ্রকোনার ওই পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়ে ঘটনার তীব্র নিন্দা করে কলকাতার বিশপ রেভারেন্ড পরিতোষ ক্যানিংকে চিঠি দিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও।
চিঠিতে বেনুগোপালের দাবি, দুর্গাপুজোর সময়, চন্দ্রকোনা থানা এলাকার পাটলাপুর গ্রামের তিন খ্রিষ্টান পরিবারের সদস্যের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। বজরং দলের নাম করে এই হামলা চালানো হয়। বর্ষীয়ান এই কংগ্রেস নেতার দাবি, ওই পরিবারের সদস্যদের জোর করে ধর্ম বদলের জন্য চাপ দেওয়া হয়। প্রতিবাদ জানালে তাঁদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকী বাড়ির মহিলাদেরকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ বেনুগোপালের। এখানেই শেষ নয়, শাহকে লেখা চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ওই পরিবারের সদস্যদের একটি দুর্গাপুজো মণ্ডপে নিয়ে গিয়ে জোর করে অঞ্জলি দেওয়ানো হয়। এমনকী তথাকথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে পুলিশকে জানানো হলে প্রাণে মারার হুমকি ওই পরিবারগুলিকে দেওয়া হয় বলেও দাবি কে সি বেনুগোপালের।
চিঠিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস সাংসদ। তাঁর দাবি, আক্রান্তদের অভিযোগে পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি। আইনজীবীদের হস্তক্ষেপে অনেক পরে এফআইআর দায়ের হয়। ঘটনায় সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে শাহকে লেখা চিঠিতে বেনুগোপাল লিখছেন, ধর্ম পালনের স্বাধীনতা প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে। জোর করে ধর্ম পরিবর্তন করানো সংবিধানের উপর আঘাতের সামিল। ফলে এই ঘটনায় যে বা যারা যুক্ত তাঁদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কড়া শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক। অন্যদিকে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও। তাঁর দাবি, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি ভারতীয় সংবিধানের মূল ভিত্তি – ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাম্য, ন্যায় এবং ধর্মনিরপেক্ষতার ওপর সরাসরি ও পরিকল্পিত আঘাত। শুভঙ্কর সরকারের কথায়, বাংলার মাটিতে, যেখানে রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দের সর্বধর্ম সমন্বয়ের আদর্শ, সেখানে ধর্মের নামে এই ধরনের জবরদস্তি ও হিংসা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই ঘটনা গণতন্ত্র এবং আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
