যুক্তরাজ্যে ধূমপানের অভ্যাস না থাকলেও ইলেকট্রনিক সিগারেট বা ভ্যাপিংয়ে আসক্ত হয়ে পড়ছেন বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী। বন্ধুদের দেখে, মানসিক চাপ কমাতে কিংবা অভ্যাসের বশে ভ্যাপ ব্যবহার শুরু করছেন অনেকে। নিকোটিনের আসক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
যুক্তরাজ্যের সরকারি পরিসংখ্যান দপ্তরের (ওএনএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ১১ লাখের বেশি মানুষ কখনো ধূমপান না করলেও এখন ভ্যাপ ব্যবহার করছেন। বছর বছর এই সংখ্যা বাড়ছে। দেশটিতে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে মোট ভ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৫৪ লাখ।
লন্ডনের ২১ বছর বয়সী গ্রেসি মুঙ্গুলু আগে ভ্যাপিং অপছন্দ করতেন। কিন্তু স্কুলে সহপাঠীদের মধ্যে এর ব্যবহার বাড়তে থাকায় ১৬ বছর বয়সে তিনিও ভ্যাপ নেওয়া শুরু করেন। বর্তমানে তিনি নিয়মিত ভ্যাপ ব্যবহার করেন। তার মতে, সামাজিক পরিস্থিতিতে উদ্বেগ কমাতে এবং হাতে কিছু ধরে রাখার অভ্যাস থেকে ভ্যাপ ব্যবহারের প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন সাবেক ‘লাভ আইল্যান্ড’ প্রতিযোগী মালিন অ্যান্ডারসন। মানসিক চাপের সময় ভ্যাপ ব্যবহার শুরু করলেও পরে এটি তার দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়। একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে চলতি বছরের মে মাসে তিনি ভ্যাপ ছেড়ে দেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভ্যাপে থাকা নিকোটিন অত্যন্ত আসক্তিকর। এটি শরীরে প্রবেশ করলে সাময়িক স্বস্তি অনুভূত হলেও পরে উদ্বেগ ও বিরক্তির মতো প্রত্যাহারজনিত উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে ভ্যাপিংয়ের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি।
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ (এনএইচএস) অধূমপায়ী ও ১৮ বছরের কম বয়সীদের ভ্যাপ ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছে। দেশটিতে ১৮ বছরের কম বয়সীদের কাছে ভ্যাপ বিক্রিও নিষিদ্ধ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভ্যাপ মূলত ধূমপায়ীদের সিগারেট ছাড়তে সহায়তার বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের কথা। কিন্তু আকর্ষণীয় রং, নানা স্বাদ ও প্রচারণার কারণে তরুণদের মধ্যে এর ব্যবহার বাড়ছে। ভ্যাপ ছাড়তে নিকোটিনের মাত্রা ধীরে ধীরে কমানো এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
সূত্র: বিবিসি
