কালবেলা · সাধারণ
রাতভর চলত ‘ডিজে পার্টি ও মাদক সেবন’, নিজের পক্ষে অতিরিক্ত ডিআইজির সাফাই
২০/১০/২০২৬

বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকর্তাদের জন্য গড়ে তোলা একটি আবাসন প্রকল্প পুলিশ হাউজিং-১। এর ভেতরেই একটি বাড়িতে প্রতি মাসের ১৫ থেকে ২০ দিন বসে মাদকের আসর। ডিজে পার্টির পাশাপাশি চলে নারী-পুরুষের অবৈধ মেলামেশা। অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের এসব কাজ চলত বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির কালবেলাকে বলেন, আমার বাসাটি ভাড়া হতো এয়ারবিএনবির মাধ্যমে। জন্মদিন উদযাপনের জন্য বাড়িটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। কোনো অপরাধ করে থাকলে যারা ভাড়া নিয়েছে, তারা করেছে। আমি সব নিয়ম মেনেই ভাড়া দিয়েছি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার ওপর দায় চাপানো হচ্ছে।
এর আগে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাত থেকে শুরু করে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ওই বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান চালায় ডিবির একটি দল। অভিযানে সেখান থেকে ৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৬ জন নারী। ওই বাড়ি থেকে গাঁজা, ইয়াবা, মদ ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামাদিও জব্দ করেছে ডিবি।
এ বিষয়ে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ওই পুলিশ কর্মকর্তা বাড়িটি ভাড়া দিয়েছেন। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও অবৈধ ডিজে পার্টি চলছিল। এজন্য সেখানে অভিযান চালানো হয়েছে।
অভিযানের পর অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরকে তার দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখায় কর্মরত ছিলেন। মঙ্গলবার আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে আব্দুল্লাহ আল জহিরকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে সংযুক্ত রাখা হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৬ সালে প্লটটি বরাদ্দ পান আব্দুল্লাহ আল জহির। ২০২২ সালে সেখানে তিনি ট্রিপ্লেক্স কনটেইনার হাউস তৈরি করেন, যা তিনি বিভিন্ন পার্টির জন্য বরাদ্দ দিতেন। বাড়িতে রয়েছে পার্টি আয়োজনের বিশেষ ব্যবস্থা। বাড়িটিতে মোট ৫টি বেডরুম, যার মধ্যে ৩টি এসি রুম এবং ৪টি বেডরুমে অ্যাটাচড বাথরুমের সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া ৫টি ব্যালকনি রয়েছে।
ডিবির অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বাড়িটি ভাড়া দিতেন জহির। কো-হোস্ট হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন মাহবুবুল আলম নামে একজন। ডিবির অভিযানে ৮৪ জনের মধ্যে কো-হোস্ট মাহবুবুল আলমও আছেন।
ডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ডিবি অভিযান শুরুর পর নানাভাবে সুপারিশ করার চেষ্টা করেন অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির। সবশেষ কো-হোস্ট মাহবুবুল আলমকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি। তবে কাউকে ছাড় না দিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সবাইকে আটক করা হয়েছে।
গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের ডিসি ইলিয়াস কবির কালবেলাকে বলেন, ওই বাড়িটি এয়ারবিএনবির মাধ্যমে ভাড়া দিয়েছিলেন আব্দুল্লাহ আল জহির। একজন কো-হোস্ট ও হোস্টের মাধ্যমে তা পরিচালিত হচ্ছিল। কো-হোস্ট মাহবুবুল আলম আটক আছেন। এয়ারবিএনবিকে ভাড়া দেওয়া হলেও ওই বাসা থেকে যা আয় হতো, তার ৭০ শতাংশ নিতেন জহির।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗