কালবেলা · রাজনীতি
ভাঙন রোধে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান হাতিয়ার বাসিন্দারা
২৫/১০/২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে নলচিরা ইউনিয়নসহ দ্বীপের বিস্তীর্ণ জনপদ নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার নলচিরা ইউনিয়নের তুফানিয়া গ্রামের নদীতীরে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে স্থানীয় শাখাওয়াত হোসেন বলেন, গত জাতীয় নির্বাচনের আগে একটি রাজনৈতিক সভায় ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাতিয়ার নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নদীতীরের মানুষ সেই প্রতিশ্রুতিতে আশাবাদী হয়েছিলেন। এখন আমরা প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে চাই। নদীভাঙনের কবল থেকে নিজেদের ঘরবাড়ি ও বসতভিটা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
সাইফুল পাটোয়ারী বলেন, মেঘনার অব্যাহত ভাঙনে হাতিয়ার বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা হুমকির মুখে রয়েছে। বিশেষ করে উপজেলার উত্তরাঞ্চলের নলচিরা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ প্রতিনিয়ত ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। নদী ক্রমেই লোকালয়ের দিকে এগিয়ে আসছে। এতে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও মানুষের দীর্ঘদিনের বসবাসের জায়গা হারানোর আশঙ্কা বাড়ছে। এখন যদি এই নদীভাঙন রোগের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হয় তাহলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে হাতিয়ার বিশাল একটি অংশ।
বক্তারা জানান, নদীভাঙন শুধু জমি বা ঘরবাড়ি হারানোর সমস্যা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের জীবিকা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ। একবার নদীতে জমি চলে গেলে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ে। ভিটেমাটি হারিয়ে তাদের অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়। ফলে নদীতীরের মানুষের জীবন-জীবিকা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বর্ষা মৌসুমে নদীর স্রোত ও ঢেউয়ের আঘাতে ভাঙনের তীব্রতা আরও বাড়ে। তাই পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। আগামী বর্ষার আগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে নলচিরা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তাঁরা সতর্ক করেন।
তারা আরও বলেন, নদীভাঙন রোধে বারবার দাবি জানানো হলেও স্থানীয় মানুষ এখন কার্যকর ও টেকসই সমাধান চান। শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদীতীরের মানুষের জানমাল রক্ষায় সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি ভাঙনকবলিত এলাকার সুরক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধনে নলচিরা ইউনিয়নের নয়টি গ্রামের প্রায় সহস্রাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। নদীভাঙনের ঝুঁকি থেকে বসতভিটা, ফসলি জমি ও জনপদ রক্ষার দাবিতে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗