ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে শীতলা মাতা মন্দিরে যাওয়ার পথে নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি ট্রাকের চাপায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৯ জন। শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মন্দিরের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ধানবোঝাই ট্রাকটি পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে তীর্থযাত্রীদের ওপর উঠে যায়। পরে মন্দিরের বাইরের দেয়াল ও ফটকে ধাক্কা দেয় ট্রাকটি।
গোয়ালিয়রের জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার (এসএসপি) ধর্মবীর সিং জানান, চিনোরের দিক থেকে আসা ট্রাকটি একটি খাড়া ঢালু পথে নিয়ন্ত্রণ হারায়। ওই সড়কে ভারী যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ রয়েছে। দুর্ঘটনার সময় সেখানে পুলিশের ব্যারিকেডও ছিল।
ধর্মবীর সিং বলেন, ‘শীতলা মাতা মন্দিরে বিপুলসংখ্যক তীর্থযাত্রী যাচ্ছিলেন। রাত দেড়টার দিকে ধানবোঝাই একটি ট্রাককে সেখানে থামানো হয়েছিল। কিন্তু সেটি পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচের দিকে নেমে আসে এবং মন্দিরের বাইরের দেয়াল ও ফটকে ধাক্কা দেয়। সড়কে থাকা তীর্থযাত্রীরা ট্রাকটির নিচে চাপা পড়েন।’
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার সময় দায়িত্ব পালনরত দুই পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা চলছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, দুর্ঘটনার পর মোট ৩৯ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ১২ জন মারা গেছেন। পাঁচ থেকে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের শরীরে হাড় ভাঙাসহ গুরুতর আঘাত রয়েছে। অন্যদের আঘাত তুলনামূলক কম এবং তারা চিকিৎসাধীন।
গোয়ালিয়রের জেলা কালেক্টর রুচিকা চৌহান জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকাজে অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্যান্য যানবাহন পাঠানো হয়। তিনি বলেন, এ ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং পাঁচ থেকে ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে প্রায় ২৯ জন বিভিন্ন ধরনের আঘাত পেয়েছেন।
নবরাত্রি উপলক্ষে ওই সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে ব্যারিকেড ও পুলিশের চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছিল। এরপরও ট্রাকটি কীভাবে সেখানে প্রবেশ করল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
রুচিকা চৌহান বলেন, ট্রাকটির যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না, তা পরীক্ষা করতে আঞ্চলিক পরিবহন দপ্তরের (আরটিও) একটি দল পাঠানো হয়েছে। কী কারণে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাঁ দিকে সরে যায়, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।
তিনি আরও জানান, আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালে নিয়মিত সিটি স্ক্যান ও এক্স-রে করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনায় আহত এক ব্যক্তির ভাই ও প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ট্রাকটি অতিরিক্ত বোঝাই ছিল। হঠাৎ সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কয়েকটি দোকান ও মানুষের ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়।
তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি রাত ১টার দিকে ঘটে। আমি কয়েকজনকে ঘটনাস্থলেই মারা যেতে দেখেছি। ট্রাকটি হঠাৎ এসে দোকান ও মানুষের ওপর উঠে পড়ে। আমার ভাইও আহত হয়েছেন। এখনো দুর্ঘটনাস্থলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করছে।’
সূত্র: এনডিটিভি
