October 12, 2026, 4:20 am
বিএডিসির ৬৫ বছরের অভিযাত্রা: কৃষকের মাঠ থেকে মানুষের পাতে
Reporter Name
- Update Time : Monday, October 12, 2026
- 0 Time View
জাতীয় ডেস্ক: একটি ধানের শিষের সফল উৎপাদনের নেপথ্যে কাজ করে উন্নত বীজ, সেচ সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় সারের সঠিক ব্যবস্থাপনা। কৃষকের মাঠ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের থালা পর্যন্ত খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার এই পুরো প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। কাকতালীয়ভাবে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য দিবসের দিনেই অর্থাৎ ১৬১৯ সালের ১৬ অক্টোবর যাত্রা শুরু করেছিল এই প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুমুখী সেবা দিয়ে আসছে রাষ্ট্রীয় এই সংস্থাটি। সময়ের পরিক্রমায় কৃষির পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে খাপ খাইয়ে দেশের কৃষকদের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে বিএডিসি।
কৃষি উৎপাদনের মূল ভিত্তি হলো মানসম্মত বীজ, যা নিশ্চিত করতে সংস্থাটি শুরু থেকেই নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে সামান্য পরিমাণ বীজ বিতরণের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমানে এর পরিধি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। উন্নত জাতের বীজ উৎপাদন ও তা কৃষক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে সারা দেশে বিএডিসির রয়েছে নিজস্ব বীজ উৎপাদন খামার, উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্র, হিমাগার এবং টিস্যু কালচার ল্যাব। এছাড়া লক্ষাধিক চুক্তিবদ্ধ চাষির মাধ্যমে মানসম্মত বীজ উৎপাদন করে তা কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রতিকূল আবহাওয়া মোকাবিলায় লবণাক্ততা ও খরা সহনশীল বিভিন্ন ফসলের জাত উদ্ভাবন ও সংরক্ষণের ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশের কৃষির আধুনিকায়নে এবং শুষ্ক মৌসুমে উৎপাদন সচল রাখতে সেচ ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব অপরিসীম। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে বর্তমানে ভূউপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পানি সাশ্রয়ী আধুনিক সেচ প্রযুক্তির প্রসারে কাজ করছে বিএডিসি। এর অংশ হিসেবে নিয়মিত খাল পুনঃখনন, সেচনালা ও ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ, সৌরবিদ্যুৎ চালিত পাম্প স্থাপন এবং বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরির মাধ্যমে হাজার হাজার হেক্টরে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এসব বহুমুখী উদ্যোগের ফলে জলাবদ্ধতা দূর করার পাশাপাশি পতিত জমিও সফলভাবে আবাদি জমিতে রূপান্তর করা সম্ভব হচ্ছে।
বীজ ও সেচের পাশাপাশি কৃষির অন্যতম প্রধান উপাদান সার সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনায়ও বিএডিসি অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়ে আসছে। রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে মানসম্মত নন-ইউরিয়া সার আমদানি করে তা সারা দেশের ডিলারের মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ করা হয়। দেশজুড়ে বিস্তৃত সার গুদাম এবং বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে সরকারের নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের সময়মতো সার প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে, গত ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের কৃষিখাতের উন্নয়নে এবং খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে এক অপরিহার্য ও বিশ্বস্ত কান্ডারি হিসেবে কাজ করে চলেছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন।
More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com


