বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী ফাইনাল ম্যাচে বৃষ্টির বাধায় ফলহীনভাবে শেষ হয়েছে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার লড়াই। প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় নির্ধারিত ওভারের খেলা পুরো শেষ না হওয়ায় দুই দলের মধ্যে সিরিজটি ২-২ ব্যবধানে অমীমাংসিতভাবেই ভাগাভাগি হয়ে গেছে।
বৃষ্টির বাগড়ায় নির্ধারিত সময়ের আড়াই ঘণ্টা পর টস অনুষ্ঠিত হয় এবং ম্যাচটি কমিয়ে ৯ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। সংক্ষিপ্ত এই লড়াইয়ে শুরু থেকেই ঝড়ো ব্যাটিংয়ের পসরা সাজায় ভারতীয় ব্যাটাররা। ইনিংসের প্রথম বলেই লেগ সাইডে ছক্কা হাঁকিয়ে দারুণ শুরুর ইঙ্গিত দেন অভিষেক শর্মা, তবে পরের বলেই কিমো পলের বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এরপর উইকেটে এসেই তাণ্ডব চালান ইশান কিষাণ। রোমারিও শেফার্ডের করা দ্বিতীয় ওভারে তিনি চড়াও হয়ে আদায় করে নেন ২৪ রান। যদিও পিচে অতিরিক্ত বাউন্স ও স্যাঁতসেঁতে ভাব ছিল, তবুও দ্রুতগতির আউটফিল্ডের সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগায় স্বাগতিকরা।
ইশান কিষাণ মাত্র ১০ বলে ঝোড়ো ৩০ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে শামার জোসেফের শিকার হন। তার ইনিংসে ছিল মারকাটারি সব শট। এরপর উইকেটে নেমে সঞ্জু স্যামসন নিজের জাত চেনান, শর্ট বলে হাঁকান একটি চার ও একটি ছক্কা। মাত্র ৩ ওভারেই ভারতের স্কোর বোর্ডে জমা হয় ৫৬ রান এবং হারাতে হয় ২ উইকেট। ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক অবিলম্বে স্পিন আক্রমণ আনলে গুডাকেশ মোতি রান আটকাতে সফল হন। শ্রেয়াস আইয়ার উইকেটে এসে দুটি চার মারলেও পুরো ইনিংসে ছন্দে ছিলেন না। ১৮ রানে জীবন পাওয়ার পর অবশেষে তিনি ২২ রান করে আউট হন।
বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার ঠিক আগে নামান ধীর মাত্র ৬ বলে ঝড়ো ২৪ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলেন, যার মধ্যে ছিল তিনটি ছক্কা ও একটি চার। তিলক ভার্মা আউট হওয়ার পরপরই আকাশে মেঘের গর্জন বাড়িয়ে ভারী বর্ষণ শুরু হলে আম্পায়াররা ম্যাচ বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হন। এরপর রাত ১০টা একুশ মিনিটে নতুন করে আবার বৃষ্টি নামলে ৭.৪ ওভারে ৫ উইকেটে ১১৮ রান সংগ্রহ করা অবস্থায় ভারতের ইনিংসের ইতি ঘটে এবং ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: ভারত: ১১৮/৫ (৭.৪ ওভার) ইশান কিষাণ ৩০, নামান ধীর ২৪*, শামার জোসেফ ২-১৭, কিমো পল ২-৩৪ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ। (বৃষ্টির কারণে ম্যাচ পরিত্যক্ত)।
