অনলাইন ডেস্ক
প্রতিদিন অল্প সময় প্রকৃতির দিকে মনোযোগ দিয়ে তাকানো এবং সেই সময়ের অনুভূতি লিখে রাখার অভ্যাস মানসিকভাবে আশাবাদী হতে সহায়তা করতে পারে। মনোবিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুযায়ী, টানা ১৪ দিন এভাবে প্রকৃতিকে লক্ষ্য করার অভ্যাস জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি ও ইতিবাচক অনুভূতি বাড়াতে পারে।
‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর একটি লেখায় কলাম লেখক ডানা মিলব্যাঙ্ক নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষ্য, আগে শীতকালকে তিনি ঘরের ভেতরে কাটিয়ে দেওয়ার একটি কঠিন সময় হিসেবে দেখতেন। তবে প্রকৃতির সঙ্গে নতুনভাবে সংযোগ তৈরি হওয়ার পর শীত তাঁর কাছে হয়ে উঠেছে আশা পুনর্গঠনের সময়।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শেনানডোয়া ন্যাশনাল পার্কে এক বন্ধুর সঙ্গে হাঁটার সময় প্রকৃতির নানা দৃশ্য তাঁকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করে। বরফে জমে থাকা ঝরনা, পুরোনো গাছ, ছোট উদ্ভিদ, কেবিন ও পরিত্যক্ত কবরস্থান দেখতে দেখতে তাঁর মনে হয়, মানুষ বৃহত্তর সময় ও জীবনের ধারাবাহিকতার একটি অংশ।
অরণ্য থেকে ফেরার পর তিনি উপলব্ধি করেন, পৃথিবী নিয়ে তাঁর সব হতাশা দূর হয়ে যায়নি। তবে হতাশার একটি অংশ কমে গিয়ে নিজের দেশ ও পৃথিবীর জন্য কিছু করার ইচ্ছা তৈরি হয়েছে।
## কী বলছে গবেষণা?
কনকর্ডিয়া ইউনিভার্সিটি অব এডমন্টনের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হলি-অ্যান পাসমোর প্রকৃতির মানসিক উপকারিতা নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁর ‘নোটিশিং নেচার ইনভেনশন’ পদ্ধতিতে টানা ১৪ দিন প্রকৃতির অন্তত একটি বিষয় মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করতে বলা হয়। এরপর সেই মুহূর্তে নিজের অনুভূতি লিখে রাখতে হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, দুই সপ্তাহে অন্তত ১০টি পর্যবেক্ষণও ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য কার্যকর হতে পারে। এই অনুশীলন সম্পন্ন করা ব্যক্তিদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির মাত্রা অন্যদের তুলনায় ৬৮ শতাংশ বেশি এবং গভীর ইতিবাচক অনুভূতির মাত্রা ৭৭ শতাংশ বেশি পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর জন্য দীর্ঘ সময় বাইরে থাকারও প্রয়োজন নেই। জানালা দিয়ে আকাশ দেখা, পাখির ডাক শোনা, গাছের পাতা লক্ষ্য করা কিংবা সূর্যের আলো খেয়াল করার মতো ছোট অভ্যাসও এই অনুশীলনের অংশ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ মানে শুধু ‘সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে’—এমন সরল আশাবাদ নয়। বরং এটি হতাশার কাছে নতি স্বীকার না করে নিজের লক্ষ্য পূরণে কিছু করার ইচ্ছা ও সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।
তাই প্রতিদিন কয়েক মিনিট প্রকৃতিকে মনোযোগ দিয়ে দেখা, সেই সময়ের অনুভূতি খেয়াল করা এবং তা লিখে রাখার অভ্যাস মানসিক সুস্থতার জন্য উপকারী হতে পারে।
