মাদককে না বলুন রাজস্থলীতে যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে খেলোয়ারদের মাঝে জার্সি বিতরণ


‘মাদককে না বলুন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যুবসমাজকে ক্রীড়াচর্চায় উৎসাহিত করতে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে রাজস্থলী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যােগে ক্রীড়ামোদি খেলোয়ারদের মাঝে জার্সি বিতরণ করা হয়েছে।
২৫ অক্টোবর রবিবার সকাল রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যলয়ে অনুষ্ঠানিক ভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউছুফ হাসান ঘিলামুখ আমতলি পাড়া ক্লাবের ১৫ জন খেলোয়াড়দের হাতে এ জার্সি তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক রাজু আহম্মদ সহ ক্রীড়ানুরাগী যুবকেরা উপস্থিত ছিলেন।
বিতরণ কালে ইউএনও আরো বলেন, মাদকের ভয়াল থাবা থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। যুবসমাজকে নিয়মিত মাঠে ফেরাতে ও স্বাস্থ্যকর বিনোদনে সম্পৃক্ত করতেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে।
জামালপুরে ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় ইমামের যাবজ্জীবন
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় মো. মুসামিয়া ওরফে মুসা হুজুর নামে এক মসজিদের ইমামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মুছা মিয়া গাইবান্ধা জেলার ফুলছরি থানার হরিচন্ডি গ্রামের মোঃ মনিরুল ইসলামের সন্তান। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুন্যালের পিপি এডভোকেট ফজলুল হক জানান, ২০২০ সালের ২৮ নভেম্বর সকালে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ী মণ্ডলপাড়ার একটি মসজিদ-সংলগ্ন মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মুসা হুজুর ওই মসজিদ ও মাদ্রাসার ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। পড়া শেষে অন্য শিক্ষার্থীরা চলে যাওয়ার পর এক ছাত্রীকে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দেওয়ানগঞ্জ থানায় মামলা হয়। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে ১০ জন সাক্ষী উপস্থাপন করে। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও যুক্তিতর্ক শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

সাতক্ষীরা সীমান্তে সাড়ে ৭ লাখ টাকার ভারতীয় ওষুধ ও মোবাইল যন্ত্রাংশ জব্দ
সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ। রোববার (২৫ অক্টোবর) সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, রোববার সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)-এর অধীন কাকডাঙ্গা বিওপি ও ঝাউডাঙ্গা বিশেষ ক্যাম্পের টহল দল নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কাকডাঙ্গা বিওপির একটি বিশেষ আভিযানিক দল সীমান্ত পিলার ১৩/৩-এস-এর ৪ আরবি থেকে প্রায় ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ওষুধ জব্দ করে। অন্যদিকে, ঝাউডাঙ্গা বিশেষ ক্যাম্পের আভিযানিক দল কলারোয়া থানার বোয়ালিয়া মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ জব্দ করে। দুটি অভিযানে সর্বমোট ৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়। বিজিবি জানায়, শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে এসব পণ্য বাংলাদেশে আনা হচ্ছিল। এ ধরনের চোরাচালানের ফলে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান, ওএসপি, পিএসসি স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং স্থানীয় শিল্পের বিকাশে বিজিবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মৌসুমি রোগের প্রভাবে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর ভিড়
যশোরের অভয়নগরে ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে বাড়ছে ডেঙ্গু সহ নানা ধরনের মৌসুমি রোগের প্রকোপ। দিনে প্রচণ্ড গরম ও রাতে হালকা ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে জ্বর, সর্দি-কাশি, গলাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, পেটব্যথাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা গেছে, ওয়ার্ডগুলোতে কোনো সিট খালি নেই। ওয়ার্ডের মেঝে, বারান্দা এবং করিডোরে মশারি টাঙিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, প্রতিদিন গড়ে যে পরিমাণ নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন, তা সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত শয্যা ও জনবল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নেই। অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন বহির্বিভাগে গড়ে প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ রোগী চিকিৎসা নিয়ে থাকেন । এসব রোগীর অধিকাংশ জ্বর, সর্দি-কাশি, গলাব্যথা, শ্বাসকষ্টে ভুগছেন । এ ছাড়া কিডনি, হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও আবহাওয়ার পরিবর্তনে বিভিন্ন জটিলতায় পড়ছেন। হাসপাতালে আসা কম আক্রান্ত রোগীদের বহির্বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হচ্ছে। ৫০ শয্যার হাসপাতালে বর্তমানে গড়ে ১১০ থেকে ১৩০ জন নিয়মিত ভর্তি রোগী থাকছেন। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণের বেশি রোগী ভর্তি থাকায় শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝেতে কিংবা বিকল্প শয্যায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আলিমুন রাজিব বলেন, আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। নারী, শিশু ও বয়স্কদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী মানুষ এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছেন। এ সময়ে অসুস্থতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

চসিকের পূর্ণকালীন প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ডা. শাহাদাত হোসেন। রবিবার স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখা থেকে এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব জুয়েল রানা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ৪ ধারা অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ডা. শাহাদাত হোসেন এ দায়িত্ব পালন করবেন। প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসক সিটি করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। এ জন্য তিনি বিধি অনুযায়ী মাসিক সম্মানি ও অন্যান্য ভাতা পাবেন। এর আগে ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর ডা. শাহাদাত হোসেনকে চসিকের মেয়র ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর আগে ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চসিক নির্বাচনের ফলাফল বাতিলের মামলা করেন ডা. শাহাদাত হোসেন। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর মেয়র প্রার্থী তাকে জয়ী হিসেবে ঘোষণা করে রায় দেন আদালত।

কুড়িয়ে পাওয়া টাকা, মাইকিং করে প্রকৃত মালিককে দিলেন দুই বন্ধু
টাঙ্গাইলের সখীপুরে রাস্তায় কুঁড়িয়ে পাওয়া ৮০ হাজার টাকা প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন দুই বন্ধু কলেজছাত্র আবু রাহাত ও আবু সোহান। তাদের সততা ও মানবিকতায় প্রশংসা করছেন স্থানীয়রা। রাহাত ও সোহান উপজেলার মহানন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার পলাশতলী এলাকায় ঘুরতে যাওয়ার পথে বড়চওনা–কালিহাতী সড়কে টাকাগুলো পড়ে থাকতে দেখেন তারা। পরে টাকার প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করতে উদ্যোগ নেন দুই বন্ধু। এ জন্য স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে টাকার মালিকের সন্ধান করা হয়। অন্যদিকে, টাকা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন এর মালিক আজিজুল। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এসআর (সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ) পদে চাকরি করেন। টাকা হারানোর পর কালিহাতী ও সখীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে সন্ধান শুরু করেন তিনি। একপর্যায়ে উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে টাকার প্রকৃত মালিক হিসেবে আজিজুলকে শনাক্ত করা হয়। তার বাড়ি কালিহাতী উপজেলার সরিষাআটা গ্রামে। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে মহানন্দপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আজিজুলের হাতে ৮০ হাজার টাকা তুলে দেন রাহাত ও সোহান। হারানো টাকা ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন আজিজুল। অন্যদিকে, টাকার প্রতি লোভ না করে প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করে তা ফিরিয়ে দেওয়ায় দুই বন্ধুর প্রশংসা করছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, এমন সততা ও মানবিকতার দৃষ্টান্ত সমাজের অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে।


