অনলাইন ডেস্ক
৩০ পেরিয়েও গোল করে যাচ্ছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসি। চল্লিশের কাছাকাছি বয়সেও তাঁদের পারফরম্যান্স ফুটবলবিশ্বে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। তবে বয়স ৩০ পেরোনোর পর গোল, অ্যাসিস্ট ও ম্যাচপ্রতি অবদানের পরিসংখ্যানে কে এগিয়ে—সে প্রশ্নের উত্তর দিতে দুই তারকার ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করেছে প্রথম আলো।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩০ বছর বয়সের পর মেসি খেলেছেন ৪৮০ ম্যাচ। করেছেন ৩৭১ গোল ও ১৯৬ অ্যাসিস্ট। অন্যদিকে, রোনালদো ৬২২ ম্যাচে করেছেন ৫১৮ গোল ও ১০৬ অ্যাসিস্ট।
গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে রোনালদোর অবদান ৬২৪, মেসির ৫৬৭। তবে রোনালদো খেলেছেন ১৪২টি ম্যাচ বেশি। ম্যাচপ্রতি গোল ও অ্যাসিস্টের হিসাবে এগিয়ে মেসি। তাঁর ম্যাচপ্রতি অবদান ১.১৮, রোনালদোর ১.০০। সময়ের হিসাবেও মেসি এগিয়ে—প্রতি ৭২ মিনিটে একটি গোলে অবদান রেখেছেন তিনি, যেখানে রোনালদোর ক্ষেত্রে সময়টি ৮৫ মিনিট।
শুধু গোলের হিসাবে ব্যবধান তুলনামূলক কম। ৩০ বছর বয়সের পর রোনালদোর গোল ৫১৮টি, মেসির ৩৭১টি। তবে ম্যাচপ্রতি গোলের হিসাবে রোনালদো ০.৮৩ এবং মেসি ০.৭৭।
পেনাল্টি থেকে রোনালদোর গোল ১১০টি, মেসির ৪১টি। পেনাল্টি বাদ দিয়েও গোলসংখ্যায় এগিয়ে রোনালদো—৪০৮ বনাম ৩৩০। তবে ফ্রি-কিক থেকে মেসি করেছেন ৪৩ গোল, রোনালদোর গোল ২২টি।
অ্যাসিস্টের হিসাবে মেসির এগিয়ে থাকা আরও স্পষ্ট। অপ্টার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৩০ পেরোনোর পর সতীর্থদের দিয়ে ১৯৬টি গোল করিয়েছেন মেসি, রোনালদোর অ্যাসিস্ট ১০৬টি। অর্থাৎ, গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রেও মেসির অবদান উল্লেখযোগ্য।
ক্লাবের পরিসংখ্যানেও দুই তারকার পারফরম্যান্সে ভিন্নতা দেখা যায়। রিয়াল মাদ্রিদে ৩০ বছর বয়সের পর ১৬১ ম্যাচে ১৬২ গোল করেন রোনালদো। ম্যাচপ্রতি গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে তাঁর অবদান ছিল ১.২৭। জুভেন্টাসে তা ০.৯০ এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ০.৫৯। আল নাসরে তাঁর ম্যাচপ্রতি অবদান আবার ১.০০।
মেসি বার্সেলোনায় ১৯৫ ম্যাচে ১৬৫ গোল ও ৭৪ অ্যাসিস্ট করেন। পিএসজিতে ৭৫ ম্যাচে তাঁর গোল ৩২টি এবং অ্যাসিস্ট ৩৪টি। ইন্টার মায়ামিতে ১২০ ম্যাচে ১০৬ গোল ও ৫৭ অ্যাসিস্ট নিয়ে ম্যাচপ্রতি অবদান দাঁড়ায় ১.৩৬।
তবে বিভিন্ন লিগের প্রতিযোগিতার মান ও খেলার পরিবেশ এক নয়। তাই ক্লাবভিত্তিক পরিসংখ্যান তুলনার ক্ষেত্রে এই পার্থক্য বিবেচনায় রাখা জরুরি।
৩০ বছর বয়সের পর শিরোপা জয়ের হিসাবে রোনালদো সামান্য এগিয়ে—১৯টি, মেসির ১৭টি। এই সময়ে রোনালদো রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তিনটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন এবং পর্তুগালের হয়ে ২০১৬ সালের ইউরো শিরোপা অর্জন করেছেন।
মেসির অর্জনের মধ্যে রয়েছে আর্জেন্টিনার হয়ে ২০২১ ও ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়।
সব মিলিয়ে, ৩০ বছর বয়সের পর মোট গোল ও গোল-অ্যাসিস্টের সংখ্যায় রোনালদো এগিয়ে থাকলেও ম্যাচপ্রতি অবদান ও অ্যাসিস্টে এগিয়ে মেসি। শিরোপার হিসাবেও দুজনের ব্যবধান খুব বেশি নয়। ফলে কে বেশি ভালো, তার উত্তর নির্ভর করছে কোন পরিসংখ্যান ও অর্জনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে তার ওপর।
