Published on
:
2 min read
সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধির দেবী লক্ষ্মী। বাংলার ঘরে ঘরে কোজাগরী পূর্ণিমায় তাঁর আরাধনা করা হয়। কোথাও পদ্মাসনে বসা দেবীমূর্তি, কোথাও লক্ষ্মীর সরা, আবার কোথাও ঘটে পুজো করা হয় দেবীকে। তিনি বিষ্ণুজায়া, তিনিই আবার দেবী দুর্গার কন্যা। কোথাও আবার তাঁকেই কল্পনা করা হয় আদিশক্তি রূপে। কিন্তু আসলে কী ভাবে জন্ম হয়েছিল দেবী লক্ষ্মীর? কে তিনি?
পুরাণ কী বলছে?
বিষ্ণু পুরাণ, ভাগবত পুরাণ ও ব্রহ্মপুরাণ ঘাঁটলে দেখা যায়, দেবী লক্ষ্মীর আরেক নাম শ্রী। মহর্ষি ভৃগু ও তাঁর স্ত্রী খ্যাতির গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। এই কাহিনি অনুসারে, লক্ষ্মী জন্মসূত্রে ভৃগুর কন্যা। পরবর্তীতে বিষ্ণুকে স্বামী হিসেবে পেতে কঠোর তপস্যা করেন তিনি। আবার এর একটা অন্য ব্যাখাও পাওয়া যায়। কথিত, কথিত, মহর্ষি ভৃগু নিজেই নাকি নারায়ণের কাছে বর প্রার্থনা করেন যেন তাঁর স্ত্রী দেবী লক্ষ্মী ভৃগুর ঘরে জন্ম নেন। তাই খ্যাতির গর্ভে দেবী শ্রী রূপে জন্ম নেন লক্ষ্মী। পরে তিনিই আবার নারায়ণের স্ত্রী হন। বৈদিক যুগেও লক্ষ্মী শ্রী নামে পরিচিত ছিল।
রয়েছে সমুদ্র মন্থনের কাহিনিও
দেবী লক্ষ্মীর জন্মের সবচেয়ে পরিচিত কাহিনিগুলির একটি জড়িয়ে রয়েছে সমুদ্র মন্থনের সঙ্গেও। কথিত, ঋষি দুর্বাসার অভিশাপে গোটা সংসার শ্রী হীন হয়ে পড়ে। স্বর্গ থেকে লক্ষ্মী বিদায় নিলে দেবতাদের ঐশ্বর্য ও সমৃদ্ধি নষ্ট হয়ে যায়। সৌন্দর্য, সম্পদ বিহীন হয়ে পড়ে সমগ্র সৃষ্টি। তখন দেবতারা এই সমস্যার সমাধানে বিষ্ণুর কাছে ছুটে যান। তাঁর পরামর্শেই অসুরদের সঙ্গে নিয়ে শুরু হয় ক্ষীরসমুদ্র মন্থন।
বিষ্ণু নিজে কুর্ম অবতারে পিঠে ধারণ করেন মন্দর পর্বত। মন্দার পর্বতকে মন্থনদণ্ড এবং বাসুকি নাগকে রজ্জু হিসেবে ব্যবহার করে শুরু হয় সমুদ্রমন্থন। সমুদ্র গর্ভ থেকে একে একে উঠে আসে নানা রত্ন, ঐশ্বরিক বস্তু ও অমৃত। সেই সময় পদ্মের উপর আবির্ভূতা হন দেবী লক্ষ্মী। সমুদ্র থেকে তাঁর আবির্ভাবের কারণে তিনি ‘সমুদ্রোদ্ভবা’ নামেও পরিচিত। পরে তিনি বিষ্ণুকে স্বামীরূপে বরণ করেন।
বাঙালির ঘরের মেয়ে লক্ষ্মী
পৌরাণিক পরিচয়ের পাশাপাশি বাংলার লোকসংস্কৃতিতেও দেবী লক্ষ্মীর বিশেষ স্থান রয়েছে। দুর্গাপুজোয় দেবী দুর্গার সঙ্গে লক্ষ্মী ও সরস্বতী আসেন তাঁর সন্তানরূপে। লোকবিশ্বাস ও মঙ্গলকাব্যের ধারায় জনপ্রিয় হয়েছে দেবীর এই সপরিবার রূপ। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় আলপনা, ধানের শিষ, কড়ি ও নৈবেদ্যের মাধ্যমে দেবীকে ঘরে আহ্বান করা হয়।
দেবী লক্ষ্মীর জন্ম নিয়ে বিভিন্ন পুরাণে একাধিক বর্ণনা থাকলেও তাঁর মূল পরিচয় ঐশ্বর্য, সৌভাগ্য ও গৃহস্থের মঙ্গলের দেবী হিসেবেই। আর বাংলার মানুষের কাছে তিনি শুধু দেবী নন, ঘরের মেয়ে, পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি ও অন্নের প্রতীকও বটে।
