একসময় পানি কচু চাষ করে এলাকায় সাড়া ফেলেছিলেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার উদ্যমী কৃষক নিউটন মন্ডল। তবে থমকে যাননি তিনি। মেধা, পরিশ্রম ও কৃষির প্রতি ভালোবাসাকে কাজে লাগিয়ে তিনি এখন লেবুর কলম বা চারা তৈরি করে অর্জন করেছেন অভাবনীয় সাফল্য। পানি কচুর পর লেবুর কলম তৈরি ও বিক্রি করে তিনি আজ এক অনুকরণীয় ও স্বাবলম্বী কৃষক হিসেবে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন।
পানি কচু থেকে লেবুর কলম: নিউটন মন্ডলের সাফল্যের গল্প কৃষি ক্ষেত্রে নতুন নতুন উদ্ভাবন ও বৈচিত্র্য আনতে ডুমুরিয়ার নিউটন মন্ডলের জুড়ি নেই। পানি কচু চাষের অভিজ্ঞতা ও সাফল্য তাকে আরও বড় কিছু করার উৎসাহ দেয়। বাজারে লেবুর ভালো চাহিদা ও লাভজনক সুযোগ দেখে তিনি লেবুর চারা ও গুটি কলম তৈরিতে আত্মনিয়োগ করেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে নিউটন মন্ডল বলেন, ‘আমি সবসময় কৃষিতে নতুন কিছু করার চেষ্টা করি। পানি কচু চাষ করে আমি বেশ ভালো লাভ পেয়েছিলাম। কিন্তু কৃষিকে আরও বিস্তৃত করতে আমি লেবুর গুটি কলম তৈরি শুরু করি। সঠিক পরিচর্যা ও ভালো জাতের লেবুর চারা তৈরি করায় বাজারে এর প্রচুর চাহিদা তৈরি হয়েছে। এখন আশপাশের অনেক কৃষক আমার থেকে কলম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। পানি কচুর পর এই লেবুর কলম আমাকে নতুনভাবে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ও স্বাবলম্বী হওয়ার আনন্দ দিয়েছে।’
তিনি আরও জানান, সঠিক সময়ে সঠিক উপায়ে কলম বাঁধতে পারলে এবং চারা ভালোভাবে বড় করতে পারলে অল্প জমিতেই বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করা সম্ভব।
কৃষি বিভাগের মন্তব্য ও মূল্যায়ন নিউটন মন্ডলের এই উদ্যোগ ও সাফল্যকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছে স্থানীয় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা বলেন, ‘নিউটন মন্ডল আমাদের উপজেলার একজন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও উদ্ভাবনী কৃষক। পানি কচু চাষে যেমন তার সাফল্য ছিল, তেমনি লেবুর কলম তৈরিতেও তিনি চমৎকার দক্ষতা দেখিয়েছেন। মানসম্মত কলমের চারা তৈরি করে তিনি শুধু নিজেই স্বাবলম্বী হননি, বরং এলাকার কৃষি অর্থনীতিতেও অবদান রাখছেন। ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে আমরা তাকে প্রয়োজনীয় সকল ধরনের কারিগরি পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিয়ে আসছি। তার এই সাফল্য দেখে এলাকার অন্য যুবকরাও কৃষিতে অনুপ্রাণিত হচ্ছে।’
কৃষি সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত নিউটন মন্ডলের এই ধারাবাহিক সাফল্য প্রমাণ করে যে, সঠিক দিকনির্দেশনা ও অধ্যবসায় থাকলে কৃষি কাজ করেও জীবনমানের আমূল পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব। ডুমুরিয়ার অনাবাদি ও পতিত জমিতেও এভাবে লেবু ও অন্যান্য ফলজ গাছের চারা তৈরি করে অনেক বেকার যুবক নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারেন বলে মনে করছেন স্থানীয় কৃষিসংশ্লিষ্টরা।
