বিশেষ প্রতিনিধি ॥
জাতীয় মাছ ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ-পুলিশ ও কোস্ট গার্ড। ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ শিকারের অপরাধে ভোলার বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে ৮ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড ও অর্থদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সাথে উদ্ধার করা হয়েছে লাখ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও বিপুল পরিমাণ মা ইলিশ।
গত ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর ১৯০ কিলোমিটার অভয়াশ্রমে ইলিশ ধরা, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের চতুর্থ দিনে নদীগুলোতে অভিযান আরো জোরদার করা হয়েছে।
ভোলা সদরে ৫ লাখ মিটার জাল জব্দ, ৪ জেলের সশ্রম কারাদন্ড
মেঘনার ভোলার চর সীমানায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নৌ-পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে মৎস্য বিভাগ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের ৪ জেলেকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম মুশফিকুর রহমান প্রত্যেককে ১৭ দিন করে কারাদন্ড প্রদান করেন।
ভোলা সদর সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান ভূঁইয়া জানান, এ অভিযানে ৫ লাখ মিটার কারেন্ট জাল ও ৫০ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। এর আগে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় আরও ৩ জেলেকে ২৫ দিন করে কারাদ- দেওয়া হয়েছিল।
কোস্ট গার্ডের যৌথ অভিযানে ৬০ হাজার মিটার জাল উদ্ধার
এদিকে ইলিশের প্রজনন নির্বিঘœ করতে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে কোস্ট গার্ডের টহল অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযানে ৬০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও ৩০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়। কোস্ট গার্ড সূত্রে জানানো হয়, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও মা ইলিশের সুরক্ষায় পুরো নিষেধাজ্ঞার সময় জুড়ে এ ধরনের তৎপরতা বজায় থাকবে।
সবগুলো অভিযানে বাজেয়াপ্তকৃত অবৈধ কারেন্ট জাল জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে এবং জব্দকৃত সকল মাছ স্থানীয় এতিমখানা, মাদরাসা ও অসহায় দুঃস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
লালমোহনে ১ জেলের সাজা ও জরিমানা
ভোলার লালমোহন উপজেলায় তেঁতুলিয়া নদীতে অভিযান চালিয়ে অসাধু উপায়ে মাছ শিকারের দায়ে এক জেলেকে আটক করা হয়েছে। রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজওয়ানুল হক ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক জেলে মো. হানিফকে (২২) ১৪ দিনের কারাদ- এবং ২০০ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন। দন্ডপ্রাপ্ত হানিফ পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাসিন্দা।
লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমদ আখন্দ জানান, অভিযানে ২ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও ১০ কেজি মাছ জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে এবং মাছ স্থানীয় এতিমখানা ও মাদরাসায় বিতরণ করা হয়।
তজুমদ্দিনে ৩ জেলেকে ২১ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড
তজুমদ্দিন উপজেলার মেঘনা নদীতে শনিবার দিবাগত রাতে মৎস্য কর্মকর্তা মো. আমির হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাসাননগর ইউনিয়নের ৩ জেলেকে আটক করা হয়। রবিবার সকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তড়িৎ চন্দ্র শীল আটককৃত মো. ছলেমান (৪৯), মো. কবির (৩০) ও মো. শাহিনকে (২২) ২১ দিন করে বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন।
মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে বলে একযোগে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।