ছাত্র বিক্ষোভের জেরে প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠান বাতিল করল জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া। এ বার ১০৬ তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে ২৯ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত নয়া দিল্লি ক্যাম্পাসে ‘তালিমি মেলা ২০২৬’-এর আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু ছাত্রসংসদ পুনর্বহালের দাবিতে ক্যাম্পাসে চলতে থাকা বিক্ষোভের জেরে আয়োজন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
গত ২১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অফ স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ারের তরফে অনুষ্ঠান বাতিলের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এই মর্মে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও ডিনদের। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবে এখনও সম্মতি জানাননি আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা। ক্যাম্পাসও স্বাভাবিক ছন্দে ফেরেনি। পড়ুয়া, অতিথি ও যোগদানকারীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্ত।
কী নিয়ে আন্দোলন করছেন পড়ুয়ারা?
আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের দাবি, ছাত্র সংসদের নির্বাচন করতে হবে পড়ুয়াদের দ্বারা গঠিত নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে। আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে সব শাস্তিমূলক পদক্ষেপ লিখিত ভাবে প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয়ের চিফ প্রক্টর এবং নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে তাঁদের পদ থেকে সরানোর দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত তিন পড়ুয়াকে আগেই সাসপেন্ড করা হয়েছিল। তবে ১২ থেকে ২১ অক্টোবরের মধ্যে আন্দোলনে যোগ দেওয়া পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক পদক্ষেপ পর্যালোচনা করা হবে বলে ২১ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়।
এ দিকে, আন্দোলনের জেরে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে এক দিনের জন্য ড. জাকির হুসেন লাইব্রেরি এবং ওল্ড লাইব্রেরি বন্ধ রেখেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
২১ অক্টোবর ছাত্র সংসদের সংবিধানের খসড়া তৈরির জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ২০০৬ সাল থেকে স্থগিত থাকা ছাত্র সংসদ পুনর্বহালের দাবির মধ্যে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সময়সীমা বা হুমকি দিয়ে জামিয়ার পড়ুয়াদের আন্দোলন থেকে সরানো যাবে না। তাঁদের দাবি, এই আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা অনশন চালিয়ে যাবেন বলে দাবি করেছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সমাধানসূত্র এখনও মেলেনি।
