ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি সৌদি আরবের ভেতরে ধারাবাহিক ও বিধ্বংসী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মূল কলকাঠি নাড়ছে ইরান। সরাসরি তেহরানের সঙ্গে সমন্বয় করেই সৌদির ওপর এই নজিরবিহীন আক্রমণ চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইয়েমেনি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ইব্রাহিম জালাল।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশ্লেষক ইব্রাহিম জালাল জানান, হুথিদের সব ধরণের অস্ত্র ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে ইরান। নিয়মিত অস্ত্র স্থানান্তরের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সৌদি আরবের ভূখণ্ডের গভীরে আঘাত হানতে হুথিরা যে সামরিক অবকাঠামো ব্যবহার করছে, তা মূলত ইরানিদের সরবরাহ করা। শুধু তা-ই নয়, এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় সামরিক প্রশিক্ষণ এবং পেশাদারিত্ব বৃদ্ধির পুরো বিষয়টি মাঠে থেকে তদারকি করছেন ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) পেশাদার সামরিক বিশেষজ্ঞরা।
জালাল আরও যোগ করেন, যদিও প্রকাশ্যে সবকিছু স্বীকার করা হয় না, তবে আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা বাড়াতে এবং কোথায় কখন হামলা চালানো হবে—সে বিষয়ে তেহরান ও হুথিদের নিজস্ব সমঝোতা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া রয়েছে। প্রতিটি পদক্ষেপই তেহরানের সম্মতি নিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লেবানন ও সিরিয়ায় বড় ধরণের ধাক্কা খাওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে আইআরজিসির অক্ষকে পুনরায় শক্তিশালী করতেই হুথিদের ব্যবহার করে এই যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাব-এল-মান্দেব প্রণালি সংলগ্ন কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে প্রক্সি হিসেবে নিজেদের অস্তিত্ব ও সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখাই হুথিদের প্রধান লক্ষ্য।
সংশ্লিষ্ট সংবাদ: হুথি
১০ জুলাই ২০২৫
