‘নারীশরীরকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে দেখানো যৌন নিগ্রহের সমান’, দিন কয়েক আগেই এআই-এর অশ্লীল কারসাজিতে ফুঁস উঠেছিলেন জাহ্নবী কাপুর। কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে নায়িকার রোম্যান্টিক গানের দৃশ্য বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল নেটভুবনে। যা নিয়ে কম শোরগোল হয়নি সিনেদুনিয়ায়। এবার এই একই অভিযোগে ফুঁসে উঠলেন ‘দৃশ্যম’ অভিনেত্রী শ্রিয়া সরণ।
“শরীরের বিভিন্ন অংশ বিকৃত করে দেওয়া হচ্ছে। কখনও স্তনের আকার পালটে দিচ্ছে, কখনও ছবিতে থাকা অন্তর্বাস উধাও হয়ে যাচ্ছে, আবার কখনও নিতম্বের আকার বড় করে দেওয়া হচ্ছে।…”
গ্ল্যামার দুনিয়ার তারকাদের বর্তমানে ডিপফেক-এর শিকার হওয়া যেন প্রায় জলভাতের মতোই হয়ে দাঁড়িয়েছে! তাঁদের ছবি-ভিডিও নিয়ে যত্রতত্র যৌনতা সংক্রান্ত কনটেন্টে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলত, ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে তারকাদের। আসলে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ‘অভিশাপে’ সিনেমা, টেলিভিশন, ওটিটির পর্দা পেরিয়ে রুপোলি দুনিয়ার তারকারা যে একেবারে আমজনতার হাতের মুঠোয় চলে এসেছে, তা বললেও অত্যুক্তি হয় না। ‘ডিপফেক’-এর এহেন বাড়বাড়ন্তে নাজেহাল সেলেবমহলও। ব্যতিক্রম হয়নি শ্রিয়া সরণের ক্ষেত্রেও। এআই-এর কারসাজিতে নায়িকার স্তনের আকার বদলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শ্রিয়া জানান, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তাঁরও একাধিক বিকৃত ছবি তৈরি করা হয়েছে। অভিনেত্রীর কথায়, এধরনের অশ্লীল ঘটনার সবথেকে বেশি শিকার হন মহিলারাই। যার জেরে নেটভুবনে নারীশরীরের বিভিন্ন অংশ নিয়ে নানা কুরুচিকর চর্চা চলে। শ্রিয়ার কথায়, “বিষয়টা কখনও কখনও হাস্যকর মনে হয়। অনেক সময় তো বুঝতেই পারি না, ছবিটা আদৌ আমার কি না? শরীরের বিভিন্ন অংশ বিকৃত করে দেওয়া হচ্ছে। কখনও স্তনের আকার পালটে দিচ্ছে, কখনও ছবিতে থাকা অন্তর্বাস উধাও হয়ে যাচ্ছে, আবার কখনও নিতম্বের আকার বড় করে দেওয়া হচ্ছে। বিষয়গুলোকে খুব একটা গুরুত্ব না দিয়ে হালকাভাবে নেওয়াই ভালো। তবে একথা বলতেই হয় যে, এটা অত্যন্ত বিরক্তিকর।” পাশাপাশি এআই প্রযুক্তির ইতিবাচক দিক সম্পর্কেও পাঠ দিয়েছেন শ্রিয়া সরণ। তাঁর কথায়, “এআই-এর যেমন অনেক ভালো দিক ও উপকারিতা রয়েছে, তেমনই এই প্রযুক্তি অনেক কিছু বদলে দেওয়ার ক্ষমতাও রাখে। ফলত এমন সব পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যা বিপজ্জনক! আমার মনে হয়, যে কোনও প্রযুক্তির ক্ষেত্রেই এই কথাটি প্রযোজ্য। সময়ের সঙ্গে আমাদের হয় এর সঙ্গে মানিয়ে চলতে হবে, নয়তো এর মোকাবিলা করতে হবে।”
