যশোরের অভয়নগরে নিজ ঘর থেকে ৭৫ বছর বয়সী আছিয়া বেগমের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ; ঘরের মালামাল এলোমেলো এবং স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও জমির দলিল নিখোঁজ থাকায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
যে ঘরে দীর্ঘদিনের নিশ্চিন্তে রাত কাটাতেন, সেই নিজের ঘরেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা আছিয়া বেগম।
একাকী রাত কাটানোর পর সকালে আর জীবিত অবস্থায় দেখা মিলল না তাঁর। ঘরের খাটের ওপর পড়ে ছিল গলাকাটা নিথর দেহ। ঘরের মালামাল এলোমেলো, খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও জমির গুরুত্বপূর্ণ দলিল। বৃদ্ধার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে যশোরের অভয়নগর উপজেলার রামনগর গ্রামে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে আছিয়া বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই গ্রামের মৃত আবু দাউদ শেখের স্ত্রী।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার আছিয়া বেগমের এক খালা নিজের মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ায় তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন। প্রতিদিনের মতো রাতেও নিজের ঘরে অবস্থান করছিলেন তিনি। কিন্তু সেই রাতই যে তাঁর জীবনের শেষ রাত হয়ে উঠবে, তা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি স্বজন কিংবা প্রতিবেশীরা।
মঙ্গলবার সকালে প্রতিবেশীরা আছিয়া বেগমের খোঁজ নিতে বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি করেন। দীর্ঘক্ষণ কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তাঁরা ঘরের ভেতরে উঁকি দেন। এ সময় খাটের ওপর তাঁর গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে হতবিহ্বল হয়ে পড়েন। পরে দ্রুত পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের মেয়ে পান্না বেগমের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর মা রাতে বাড়িতে একাই ছিলেন। সকালে মায়ের এমন নৃশংস পরিণতির খবর পেয়ে পরিবারে শোকের মাতম শুরু হয়। যে মাকে ঘিরে ছিল সন্তানের স্মৃতি, ভালোবাসা ও নির্ভরতা, সেই মাকে এভাবে হারানোর বেদনা স্বজনদের জন্য গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে পরিবারের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের পর ঘরের মালামাল এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া গেছে। জমির দলিল, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকারও সন্ধান মিলছে না। এ পরিস্থিতিতে পরিবারের ধারণা, চুরি বা লুটপাটের উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা বাড়িতে প্রবেশ করে থাকতে পারে। তবে কী উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, কে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং নিখোঁজ মালামালের সঙ্গে হত্যার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থল থেকে সম্ভাব্য আলামত সংগ্রহ করেছি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একাকী বাড়িতে থাকা এক বৃদ্ধার এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ঘটনার রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
