সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের জন্য খুলনা জেলা ও নগরে চার স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। যে-কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং মণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক স্বস্তি বজায় রাখতে পুলিশ, আনসার, র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে নিরাপত্তা বলয়। অধিক গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলো সিসি টিভির আওতায় আনা হয়েছে।
জেলা ও মহানগরীতে ৯৫৬টি স্থানে পূজামণ্ডপ নির্মাণ করা হয়েছে। এসব মণ্ডপের নিরাপত্তায় পোশাকধারী ও সাদা পোষাকে ১১ হাজার ২২৪ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি সাথে থাকবে এসআরবি ও কোস্টগার্ড সদস্যরা।
শুক্রবার ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। শনি ও রবিবার সপ্তমী এবং বুধবার বিষর্জনের মাধ্যমে পূজা শেষ হবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশ্বাস মতে দেবীর আগমন ঘটকে, বিদায় নৌকায়।
নগর পুলিশের বিশেষ শাখার কর্মকর্তা মামুন খান বলেন, এবার নগরীতে ১১৯টি স্থানে পূজা মণ্ডপ নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০৬টিকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং বাকিগুলো গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। নগরীতে স্থাপিত মণ্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন ১ হাজার ২০০ জন পুলিশ। কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকবে মণ্ডপগুলো। সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জদের সাথে সিনিয়র অফিসারগণও টহলে থাকবেন। নিরাপত্তা রক্ষার জন্য প্রত্যেক মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
থানা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, ৮ হাজার ৮৮৮ জন আনসার সদস্য পূজা মণ্ডপে দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশের পাশাপাশি প্রত্যেকটি মণ্ডপে ৬ জন করে আনসার সদস্য থাকবেন।
তিনি আরও বলেন, মন্দিরের ভেতরে যে-সব সদস্য থাকবেন তাদের কাছে লাঠি এবং বাইরের সদস্যরা সশস্ত্র অবস্থায় দায়িত্ব পালন করবেন।
জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেন, পূজা মণ্ডপগুলোকে চার স্তরের নিরাপত্তায় আনা হয়েছে। শিশু ও তরুণীরা এখানে আনন্দ করে। তাদের আনন্দ ম্লান না হয় সেজন্য পূজা উদযাপন কমিটিকে মহিলা স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে উদযাপন কমিটির সাথে আলোচনা সভায় তাদের মণ্ডপগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার কথা বলা হয়।
তিনি আরও বলেন, মণ্ডপের কাছে একটা স্থির ফোর্স রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভেতরে ও বাইরে সাদা পোশাকধারী পুলিশ থাকবেন চুরি ও ছিনতাইরোধ। তাছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। যে-কোনো প্রয়োজনে তারা যে-কোনো স্থানে মুভ করতে পারে।
এ কর্মকর্তা আরও বলেন, নিরাপত্তার জন্য বিট অফিসার থাকবেন। সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ও সাকেল এসপি’র সাথে তারা যোগাযোগ রাখতে পারবেন। তাছাড়া জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোলরুম ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। যে-কোনো প্রয়োজনে যেকেউ যোগাযোগ করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের নিজস্ব অর্থায়নে প্যানা তৈরি করা হয়েছে। প্রত্যেক মণ্ডপে সেই প্যানাগুলোকে ঝুলিয়ে রাখা হবে। সেখানে পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সার্কেল এসপি ও থানা, এসআরবি, কোস্টগার্ডসহ ফায়ার সার্ভিস দপ্তরের নম্বর রাখা হয়েছে। দুর্গোৎসব সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত করার লক্ষ্যে পুলিশ একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এসআরবি খুলনা-৬ এর অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ বলেন, ১৩ অক্টোবর থেকে খুলনা বিভাগের ৮টি জেলায় বিশেষ টহল শুরু করেছেন তারা। প্রতিদিন ৮ জন সদস্য ১০টি টিমে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন মণ্ডপে কাজ করছেন।
তিনি আরও বলেন, এ বছরে নাশকতার কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। শনিবার থেকে তিনি বিভিন্নস্থানে নির্মিত মণ্ডপগুলো পরিদর্শন করবেন। শত বছরের ঐতিহ্যমণ্ডিত উৎসব সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য তিনি সকলের সমন্বিত সহায়তা কামনা করেছেন।
এদিকে খুলনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি কৃষ্ণপদ দাশ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বেশ ভালো। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রশান্ত কুমার কুন্ডু বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠান পরিচালনার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনারের সাথে বৈঠক হয়েছে। তা ছাড়া সরকারি দলের নেতৃবৃন্দরা সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রতিটি মণ্ডপের নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
খুলনা গেজেট/এনএম
