Published on
:
2 min read
এই সময়: শহরে শান্তিপূর্ণ ভাবেই চলছে দুর্গাপ্রতিমা নিরঞ্জনের প্রক্রিয়া। দশমীর দিন সর্বোচ্চ ২৮৩৭টি প্রতিমার নিরঞ্জন হয়েছে বলে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ। এর মধ্যে বড় পুজো ছিল ২৩টি। একাদশীর দিন বৃহস্পতিবার নিরঞ্জন হয় ২৩১টি প্রতিমার। শুক্রবার দ্বাদশীতে রাত ১০টা পর্যন্ত ২৫৩টি প্রতিমার বিসর্জন হয়েছে বলে লালবাজার সূত্রে খবর। প্রসঙ্গত, এ বছর কলকাতায় ৩৪০০–র মতো দুর্গাপুজো হয়েছিল।
কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, ডিভিশনের ভিত্তিতে দশমীতে সবচেয়ে বেশি বিসর্জন হয়েছে সাউথ সাবার্বান ডিভিশনে ৪৫৬টি এবং সাউথ–ওয়েস্ট ডিভিশনে ৩৩৩টি। নর্থ ডিভিশনে ১৯১টির মধ্যে ৬টি বড় পুজো— জগৎ মুখার্জি পার্ক, কুমারটুলি সর্বজনীন, শ্যাম স্কোয়ার, বাগবাজার সর্বজনীন, বিডন স্ট্রিট ও কাশী বোস লেনের প্রতিমার বিসর্জন হয়। সাউথ ইস্ট ডিভিশনে মোট ১৪৯টির মধ্যে ৮টি বড় পুজো—ম্যাডক্স স্কোয়ার, দেশপ্রিয় পার্ক, গড়িয়াহাট হিন্দুস্থান ক্লাব, পার্ক সার্কাস, পদ্মপুকুর বারোয়ারি সমিতি, যোধপুর পার্ক, ৯৫ পল্লি ও সমাজসেবী সঙ্ঘের প্রতিমার বিসর্জন হয়। সাউথ ডিভিশনে ১৫৯টির মধ্যে ৪টি বড় পুজো—সুরুচি সঙ্ঘ, মুদিয়ালি ক্লাব, ভবানীপুর সর্বজনীন ও কলকাতা সনাতনী সঙ্ঘের প্রতিমার বিসর্জন হয়। এ ছাড়া সেন্ট্রাল ডিভিশনে সিমলা ব্যায়াম সমিতি–সহ ৬০টি, ইস্ট ডিভিশনে মেট্রোপলিটন–সহ ১৫২টি, সাউথ–ওয়েস্ট ডিভিশনে বিবেকানন্দ স্পোর্টিং এবং সাউথ সাবার্বান ডিভিশনে কামডাহরি ও সাউথ সিটি মল-সহ বহু প্রতিমার বিসর্জন হয়।
একাদশীতে নর্থ ডিভিশনে ৩৩টি, সেন্ট্রালে ১৯টি, ইস্ট ডিভিশনে ২১টি এবং ইস্ট–সাউথ ডিভিশনে ৩৪টি প্রতিমার বিসর্জন হয়। সাউথ–ইস্ট ডিভিশনে নিরঞ্জন হয় ২৪টি প্রতিমার। এর মধ্যে ছিল একডালিয়া এভারগ্রিন, সিংহী পার্ক, পার্ক সার্কাস বেনিয়াপুকুর, আদি বালিগঞ্জ, বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন এবং সুনীলনগর সর্বজনীন। পোর্ট ডিভিশনে ৯টি, সাউথ ডিভিশনে ২৩টি, সাউথ–ওয়েস্ট ডিভিশনে ৩০টি, সাউথ সাবার্বানে ২৯টি এবং ভাঙড়ে ৯টি প্রতিমার বিসর্জন হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, দ্বাদশীতে সবচেয়ে বেশি বিসর্জন হয়েছে বাজেকদমতলা ঘাটে, মোট ৮২টি। এ ছাড়া গোয়ালিয়র ঘাটে ৪৫টি, নিমতলা ঘাটে ৩৫টি, বাবুঘাটে ১৬টি, বাগবাজার ঘাটে ১৫টি, মায়ের ঘাটে ১৫টি, দইঘাটে ১৩টি, শোভাবাজার ঘাটে ১০টি, রতনবাবু ঘাটে আটটি, কুমোরটুলি ঘাটে ছ’টি, আহিরীটোলা ঘাটে তিনটি, নাথেরবাগান ঘাটে দু’টি, সর্বমঙ্গলা ঘাটে দু’টি এবং রানি দেবেন্দ্রবালা ঘাটে একটি প্রতিমার বিসর্জন হয়েছে।
এই বিসর্জন পর্বেই ‘সনাতনীরা ছাড়া কেউ বিসর্জনে দুর্গা প্রতিমা ধরতে পারবে না’ বলে মন্তব্য করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ বিষয়ে শুক্রবার লালবাজারে সাংবাদিক বৈঠকে প্রশ্ন করা হলে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ বলেন, ‘এখানে পুলিশের ভূমিকা নেই। পুলিশ আইনশৃঙ্খলা দেখে। বিসর্জনে কারা আসবেন, সেটা পুজো কমিটি নিজেরা ঠিক করে। তবে পরিস্থিতির উপরে নজর রাখা হবে।’ তিনি জানান, বিসর্জনের সময়ে অপ্রীতিকর ঘটনা বা আইনগত ত্রুটি থাকলে পরবর্তীতে নির্দিষ্ট ধারায় অভিযোগ দায়ের হলে পুলিশ আইন মতো ব্যবস্থা নেবে।
