ঝিনাইদহে পরকীয়ার সন্দেহে ৪০ বছর বয়সী এক নারীর মাথার চুল কেটে ও শরীরে মরিচের গুড়া লাগিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ঝিনাইদহ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারী। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বিকালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার করাতিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
সদর থানা পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, করাতিপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে পরকীয়ার সন্দেহের জেরে তার স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলে ভুক্তভোগী নারীর বাড়িতে গিয়ে তার ওপর নির্যাতন চালায়।
ভুক্তভোগী নারী গণমাধ্যমকে জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে করাতিপাড়া প্রামাণিক পাড়ায় নিজ বাড়িতে বসে ছিলেন ওই নারী। এসময় পার্শ্ববর্তী নারায়ণপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ নামের এক ব্যক্তি বাড়িতে গিয়ে ওই নারীকে করাতিপাড়ার আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কের অভিযোগ তুলে শাসিয়ে চলে যান। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ভুক্তভোগী নারীর বাড়িতে আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলে প্রবেশ করে। এসময় বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তারা ওই নারীর চুল কেটে ফেলে এবং শরীরে মরিচের গুড়া লাগিয়ে দেয়। এসময় ওই নারীর চিৎকার শুনে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা দেয়। পরে রাতেই ঝিনাইদহ সদর থানায় এজাহার দায়ের করেন ভুক্তভোগী নারী।
ভুক্তভোগী নারীর ছেলে বলেন, মায়ের চিৎকার শুনে ঘর থেকে বের হয়ে দেখি কয়েকজন মিলে মাকে মাটিতে ফেলে গায়ে মরিচের গুড়া লাগাচ্ছে। আমি বাঁধা দিতে গেলে আমাকেও তারা মারধর করে।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুর রশিদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া আনোয়ার হোসেন ও তার পরিবারের লোকজনও গা ঢাকা দিয়েছেন।
এই বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী ৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন। আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলেকে আসামি করেছেন মামলার বাদী। এছাড়া স্থানীয় আরেক ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। পুলিশ মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।
