একটি যুগের অবসান, সামনে নতুন শুরুর অপেক্ষা। লিওনেল মেসিকে ছাড়া মাঠে নেমে নিজেদের সামর্থ্যের নতুন পরীক্ষা দিতে হবে আর্জেন্টিনাকে। সেই যাত্রার শুরুটা হতে যাচ্ছে নভেম্বরে, উরুগুয়ে ও কোস্টারিকার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ দিয়ে। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এই নতুন পথচলায় নজর থাকবে নতুন অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও কোচ লিওনেল স্কালোনির ওপরও।
মেসির বিদায়ের পর নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল। চলতি বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক বিরতিতে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আলবিসেলেস্তেরা। দুই ম্যাচেই প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে দক্ষিণ আমেরিকার উরুগুয়ে ও মধ্য আমেরিকার কোস্টারিকা।
এর আগে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে এই দুই দলের নাম উঠে এসেছিল। এবার আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) ঘোষণায় মিলেছে সেই খবরের আনুষ্ঠানিক সত্যতা। সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৩ নভেম্বর বুয়েনস এইরেসের লা বোম্বোনেরা স্টেডিয়ামে উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। এরপর ১৭ নভেম্বর কর্দোবার মারিও কেম্পেস স্টেডিয়ামে কোস্টারিকার বিপক্ষে মাঠে নামবে দলটি।
মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর পর এই দুটি ম্যাচ দিয়েই নতুন পথচলা শুরু হবে আর্জেন্টিনার। গত ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানেন ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে আয়োজিত সেই ম্যাচটি পরিণত হয়েছিল আবেগঘন বিদায় অনুষ্ঠানে। নিজের শেষ ম্যাচে একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে আরও দুটি গোল করান এলএমটেন। তার বিদায়ী ম্যাচে ৩-০ গোলের জয় পায় আর্জেন্টিনা।
মেসির বিদায়ের আগে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের আন্তর্জাতিক বিরতিতেও দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল আর্জেন্টিনা। দুই ম্যাচেই দাপুটে জয় তুলে নেয় স্কালোনির শিষ্যরা। কর্দোবায় বলিভিয়াকে ৪-০ গোলে হারানোর পর রিভার প্লেটের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত করে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে এই দুটি ম্যাচেই দলের বাইরে ছিলেন মেসি। ফলে তার অনুপস্থিতিতে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে ইতিবাচক বার্তা পেয়েছেন কোচ স্কালোনি।
এদিকে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা আগামী ডিসেম্বরে। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের পর দায়িত্ব ছাড়ার ইঙ্গিত দিলেও পরবর্তী সময়ে সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত তার সঙ্গে নতুন চুক্তি করতে পারে এএফএ। সে ক্ষেত্রে আসন্ন প্রীতি ম্যাচ দুটি হতে পারে পরবর্তী বিশ্বকাপ সামনে রেখে স্কালোনির নতুন যাত্রার সূচনা। বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন কোচ বলেছিলেন, ‘সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আমি কোচ হিসেবেই কাজ চালিয়ে যাব।’
মেসির পাশাপাশি জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়েছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দিও। তার বিদায়ের পর অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন আরেক ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। সর্বশেষ ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডোয় তার নেতৃত্বেই মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। অভিজ্ঞ দুই খেলোয়াড়ের বিদায়ের পর দলের নেতৃত্ব ও রক্ষণভাগের ভার সামলানো রোমেরোর জন্যও হবে বড় পরীক্ষা।
আগামী বছরের মার্চে শুরু হওয়ার কথা ২০৩০ বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব। তবে বিশ্বকাপের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে এবারের আসরে থাকছে বিশেষ আয়োজন। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েতে। আয়োজক হিসেবে এই তিন দেশকে বাছাইপর্বে অংশ নিতে হবে না। ফলে বাছাইপর্বের চাপ ছাড়াই সরাসরি মূল আসরকে সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুত করার সুযোগ পাবে স্কালোনির দল।
মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনার পথচলা কেমন হবে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই থাকবে কৌতূহল। দীর্ঘদিনের অধিনায়কের অনুপস্থিতিতে দলের আক্রমণভাগের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া, নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং স্কালোনির কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। নভেম্বরে উরুগুয়ে ও কোস্টারিকার বিপক্ষে ম্যাচ দুটি তাই নিছক প্রীতি ম্যাচ নয়, বরং মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনার সম্ভাবনা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।
