আজকাল ওয়েবডেস্ক: পুলিশের কাছে আত্মহত্যার কথা জানিয়েছিল পরিবার। তদন্তে উঠে এল শিউরে ওঠা তথ্য। গুজরাটের খেদা জেলার ভয়াবহ ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য এলাকায়। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, খেদা জেলার এক গর্ভবতী মহিলার আত্মহত্যার ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে যে, আসলে তাঁকে খুন করা হয়েছে। অভিযোগের তীর ওই মহিলার স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দিকেই। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, খুনের পর, আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে, ঘটনাটিকে আত্মহত্যার মতো সাজিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছিল পুলিশের সামনে।
ঘটনা পুলিশের কাছে পৌঁছয় ১৭ সেপ্টেম্বর। সেদিন সকালে, পুলিশের কাছে খবর যায়, খেদার মাহুদা এলাকায় অরুণাবেন আত্মহত্যা করেছেন, নিজের বাড়িতেই। গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার উল্লেখ করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তবে, অরুণাবেনের মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করেন শুরুতেই।
১৩ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন অরুণাবেন। ঘটনার রাতে, তিনি আচমকা পেটে তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করেন। স্বামীকে অনুরোধ করেন চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তথ্য, অসুস্থ ও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর দিকে নজর দেওয়ার পরিবর্তে স্বামী মিতুল নিজের ফোন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লিখিত, তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, এক পর্যায়ে হতাশ অরুণাবেন বলেন, এই পরিস্থিতিতে, মরে যাওয়াই ভাল। তারপরেই নাকি স্বামী গুগল সার্চ করেন। দেখেন, কীভাবে স্ত্রী আত্মহত্যা করলে স্বামী দায়ী হন কি না। পুলিশের ভাষ্যমতে, এই অনলাইন অনুসন্ধানের পর মিতুল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা মিলে বাড়িতে থাকা তরল ন্যানো ইউরিয়া ব্যবহার করে অরুণাবেনকে খুনের ছক কষেন। জোর করে তাঁর গলায় বিষাক্ত তরল ঢেলে দেওয়া হয়। অরুণাবেনের মৃত্যু হলে, ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে পুলিশের কাছে উপস্থাপন করা হয় এবং তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে, মৃতদেহটি একটি নাইলন দড়ি দিয়ে জানালার সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে। চিকিৎসকদের একটি দল মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করার পরেই, বেরিয়ে আসে প্রকৃত তথ্য। পুলিশ মিতুল ও তার ভাই বিপুলকে গ্রেপ্তার করে এবং ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ দ্রব্যাদি সংগ্রহ করে।
https://www.youtube.com/watch?v=JwFdq_tA9cE
