সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে মিশর প্রস্তুত রয়েছে। রবিবার মিশরের প্রেসিডেন্টের দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী বিশ্বের বৃহত্তম এই তেল রপ্তানিকারক দেশটির ওপর তাদের হামলা জোরদার করার প্রেক্ষাপটে মিশর এই ঘোষণা দিল।
মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি পার্লামেন্টের একটি জরুরি অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এই অধিবেশনের উদ্দেশ্য হলো—সৌদি আরব যদি সহায়তা চায়, তবে তাদের নিরাপত্তা রক্ষায় সহায়তা করার জন্য মিশরীয় সামরিক বাহিনীকে (যা আরব বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সামরিক বাহিনী) অনুমতি প্রদান করা। সামরিক সহায়তার অনুরোধ অনুমোদনের বিষয়ে রবিবার পার্লামেন্টে ভোটাভুটি হওয়ার কথা ছিল, তবে আলোচনা সোমবার পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে জানিয়েছেন দুজন আইনপ্রণেতা এবং স্থানীয় গণমাধ্যম।
গত কয়েক দিনে ইয়েমেনের হুথিরা রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘সৌদি আরামকো’-তে হামলা চালিয়েছে।
মিশরের প্রেসিডেন্সি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা, তাদের সম্পদ ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা বজায় রাখা এবং ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোর সুরক্ষার জন্য মিশর দেশটিকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ও সম্ভাব্য সহায়তা প্রদান করবে।”
মিশরের জাতীয় প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের একটি বৈঠকের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সিসির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে পার্লামেন্টের স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী এবং সেনাপ্রধান উপস্থিত ছিলেন।
শনিবার এক ভাষণে সিসি বলেন, সৌদি বাদশাহ সালমান এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পরামর্শ অনুযায়ী মিশর কাজ করবে। ইয়েমেনে লড়াই নতুন করে শুরু হওয়ার পর, ১৫ সেপ্টেম্বর তারা সিসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।
মিশর ও সৌদি আরব ঘনিষ্ঠ কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদার। ২০১৩ সালে ইসলামপন্থী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করার পর, সৌদি আরব এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো মিশরকে কয়েক বিলিয়ন ডলারের সহায়তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আমানত এবং বিনিয়োগ প্রদান করেছিল।
