বাংলাদেশ ফুটবল লিগের চতুর্থ রাউন্ডে একই দিনে দুটি ম্যাচ, দুটি গোলশূন্য প্রথমার্ধ শেষ পর্যন্ত পরিণতি একই। বিরতির পর খুলে গেছে গোলের দরজা। মানিকগঞ্জে পিডব্লিউডিকে ২-০ গোলে হারিয়েছে মোহামেডান ও গাজীপুরে সিটি ক্লাবকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে বসুন্ধরা কিংস।
মানিকগঞ্জে শুরু থেকেই চাপ তৈরি করেছিল সাদা-কালো জার্সিধারীরা। এগিয়ে যাওয়ার অন্তত তিনটি সুযোগ নষ্ট হয়েছে। সোহেল রানা জুনিয়রের শট ফেরান গোলকিপার সাজু আহমেদ, মোজাফফর মোজাফফরভের শট বাইরে যায়, আর সোহেলের আরেকটি প্রচেষ্টা বিফল হয়েছে ক্রসবারের ওপর দিয়ে। ৪২তম মিনিটে এমবিদা ইয়োহানের বুলেট গতির ফ্রি-কিক পোস্টে লেগে ফিরলে হাতছাড়া হয় পিডব্লিউডির সবচেয়ে বড় সুযোগ।
ডেডলক ভাঙার কৃতিত্বটা কোচ ফার্নান্দো সান্তিয়াগো ভারেলার- দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ইমানুয়েল সানডেকে নামানোর সিদ্ধান্ত হয়ে ওঠে মোক্ষম চাল। সানডের ক্রসে দুর্দান্ত হেডে সোলেমান দিয়াবাতে দলকে এগিয়ে দেন। ৭৮তম মিনিটে দিয়াবাতের কাটব্যাকে হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মিনহাজ রাকিব। তিন ম্যাচে তিন জয়ে মোহামেডানের সংগ্রহ ৯ পয়েন্ট। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ পুলিশ এফসি আছে শীর্ষে। চার ম্যাচে তিন ড্র ও এক হারে পিডব্লিউডি সপ্তম স্থানে।
গাজীপুরের কাহিনি আরও একপেশে। প্রথমার্ধে রবসন রবিনহোও দুবার গোলকিপারের মুখোমুখি হয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। বিশেষ করে ৩৪তম মিনিটে মানিশ দাঙ্গির নিখুঁত পাসে পাওয়া সুযোগটি ইসাক আকন্দের দুর্দান্ত সেভে ব্যর্থ হয়। ওদিকে ৩৯তম মিনিটে এনামুল গাজী সিটিকে এগিয়ে নেওয়ার একটি সুযোগ পেয়েও টোকা দিতে পারেননি।
বিরতির পর চিত্র পাল্টে যায়। ৪৯তম মিনিটে কাইকে জেসুসের সঙ্গে দেওয়া-নেওয়ায় বক্সে ঢুকে বাঁ কোনা দিয়ে প্লেসিং শটে গোল করে প্রথম ম্যাচের ব্যর্থতা ভুলিয়ে দেন রবসন। ৬৯তম মিনিটে সায়েখ দোস্তের হেড মুষ্টিবদ্ধ হাতে ফিরিয়ে সিটিকে সমতায় ফেরা থেকে বঞ্চিত করেন কিংস গোলকিপার। দুই মিনিট পর এমেকা ওজবুগকে ফাউল করেন ফরহাদ মনা। বদলি নামা এই ফরোয়ার্ড পেনাল্টি থেকে গোলকিপারকে ভুল পথে পাঠিয়ে ব্যবধান ২-০ করেন। যোগ করা সময়ে নতুন জার্সিতে প্রথম গোল করে ম্যাচের ফয়সালা টানেন কাজেম শাহ।
এই জয়ে কিংসের সংগ্রহ ৭ পয়েন্ট। এক ম্যাচ কম খেলেও তারা সিটি ক্লাবকে টপকে চারে উঠেছে। আরামবাগের বিপক্ষে ১-১ ড্র দিয়ে শুরু করে কিংস শেষ দুই ম্যাচে ১০ গোল দিয়েছে, হজম করেনি একটিও।
সুযোগ নষ্টের ধৈর্য পরীক্ষায় ঘাবড়ে যায়নি দুই দল। বেঞ্চের সঠিক ব্যবহার আর দ্বিতীয়ার্ধের ঠান্ডা মাথাই এনে দিয়েছে জয়। শিরোপার লড়াইয়ে এই দুই দলের ধারাবাহিকতা বাকিদের জন্য বার্তা, চ্যাম্পিয়নরা সহজে ছাড়ে না।