চাঁপাইনবাবগঞ্জে আইসিইউ চালু ও মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, চিকিৎসক ও জনবল সংকট নিরসন, আইসিইউ চালু, শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় জেলা হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব বিষয় উঠে আসে। সভায় জেলার স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান সমস্যা, চলমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত, মানসম্মত ও সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব আ. ন. ম. বজলুর রশিদ বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের স্বাস্থ্যসেবার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল সংকট নিরসন, হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আধুনিক চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জেলার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জেলা হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন জরুরি। এ জন্য চিকিৎসক ও জনবল সংকট নিরসন, শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি, আইসিইউ চালু এবং উন্নত চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণ করতে হবে। পাশাপাশি জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশিদ, সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তার, ডা. মো. ময়েজ উদ্দিন, পৌরসভার সাবেক মেয়র অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলামসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকেরা।
সভায় জেলার স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা দূর করা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জনবল নিশ্চিত করা এবং হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগে এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর অগ্রগতি হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।
