সম্মুখসমরে এলন মাস্কের ‘স্টারলিঙ্ক’ ও মুকেশ আম্বানির ‘রিলায়্যান্স’। ক’দিন আগেই মাস্ক অভিযোগ করেছিলেন, আম্বানির পাশে দাঁড়াতে স্টারলিঙ্ককে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না মোদি সরকার। এবার পালটা দিল ভারতীয় সংস্থা। বিবৃতি দিয়ে তারা জানাল, ইলন মাস্কের স্টারলিঙ্ক-সহ ভারতে ‘কৃত্রিম উপগ্রহ ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা’ (স্যাটকম)-র বাজারে যে কোনও সংস্থার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রস্তুত মুকেশ অম্বানির রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। তবে ভারতে এলে আইন মেনে ব্যবসা করতে হবে।
৯ অক্টোবর এক্স হ্যান্ডেলের পোস্টে এলন মাস্ক লেখেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, ভারতের বাজারে স্টারলিঙ্ককে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কারণ, কিছু গোষ্ঠী নিজেদের সেদেশে নিজেদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায়।’ দ্বিতীয় পোস্টে মার্কিন ধনকুবের বলেন, ‘স্টারলিঙ্ক ভারতের সেই মানুষদের জন্য উচ্চ-গতির ও সাশ্রয়ী ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবস্থা করবে, যাঁরা চড়া দামে ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যবহার করতে পারেন না।’ প্রথম দিকের এক্স পোস্টগুলিতে অবশ্য সরাসরি কোনও গোষ্ঠী বা প্রভাবশালীর নাম উল্লেখ করেননি টেসলা কর্তা। এরপর অবশ্য ঢাকাচাপা ছেড়ে সরাসরি আম্বানির নাম তোলেন।
রিটুইট করে মাস্ক বলেন, ‘১৬৫টি দেশে স্টারলিঙ্কের লাইসেন্স রয়েছে। গত পাঁচ বছর ধরে ভারত সরকারের প্রত্যেকটি নিয়ম মেনে চলেছে। তা সত্ত্বেও কেন লাইসেন্স পেলাম না? তাহলে কি ভারতের বস আম্বানিই?’ মাস্কের এই টুইটের জবাবে রাহুল গান্ধী একটি ছবি পোস্ট করলে পারদ চড়ে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং গৌতম আদানিকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছে। কারও নাম না করে রাহুল লিখেছেন, ‘আরেকজনকেও এবার খুঁজে পাবেন এবার।’ অর্থাৎ তাঁর ইঙ্গিত, ভারতের ‘বস’ আদানিও।
এই আবহে ‘রিলায়্যান্স জিয়ো’র পরিচালক সংস্থার তরফে শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘আমরা স্টারলিঙ্ক-সহ উপগ্রহ ভিত্তিক ইন্টারনেট যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতাকে স্বাগত জানাই। জিয়ো-সহ প্রত্যেক সংস্থাকেই ভারতের জনগণের সেবা করতে হবে এবং দেশের আইন ও নীতি মেনে চলতে হবে।’’অতীতে রিলায়্যান্স জিয়ো ইঙ্গিত দিয়েছিল, দেশে কৃত্রিম উপগ্রহ ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা (স্যাটকম) জনপ্রিয় হওয়া কঠিন। প্রধান কারণ গ্রাহকের চড়া খরচ। যা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
