ছবির ক্যাপশন: .
>> নাসির উদ্দিন ভূঁইয়া, মিরসরাই, চট্টগ্রাম
বিগত বছরগুলোতে জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছালেও চলতি বছর এখনো অনেক স্কুলের শিক্ষার্থীরা হাতে বই পায়নি।বছরের দুই মাস অতিবাহিত, ইতিমধ্যে রোজা এবং ঈদের জন্য ৪০ দিনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যার ফলে এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহেও ছাত্র-ছাত্রীরা হাতে বই পাবে কিনা এ ব্যাপারে চরম অনিশ্চয়তা আছে।
সীতাকুণ্ড ও মিরস্বরাই উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘুরে জানতে পারি এখনো দুই উপজেলার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ক্লাসের ছাত্রছাত্রীরা বই পায়নি। মিরসরাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম ফখরুল ইসলাম বাংলাদেশ সমাচার কে বলেন মিরসরাই উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শতভাগ বই বিতরণ সম্পুর্ণ হয়েছে। পার্শ্ববর্তী সীতাকুন্ড উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জনাব গোলাম রহমান চৌধুরী বাংলাদেশ সমাচারকে বলেন সীতাকুণ্ড
উপজেলার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ক্লাসের শিক্ষার্থীদের হাতে এখনো বই পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে তারা জানান, প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় শ্রেণীর বই বিতরণ সম্পুর্ণ হলেও চতুর্থ এবং পঞ্চম শ্রেণীর দুই তিনটা বিষয়ের বই ব্যতীত বাকি বইগুলো এখনো ছাত্রছাত্রীদের হাতে পৌঁছায়নি।
অন্যদিকে মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখনো বিভিন্ন স্কুলের বিভিন্ন ক্লাসের বই বিতরণ বাকি আছে। সীতাকুন্ড এবং মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ইংরেজি গণিত এবং চারুকলা ছাড়া অন্য কোন বই এখনো পায়নি। সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা শতভাগ বই পেয়েছে। কিন্তু অষ্টম এবং নবম শ্রেণী শিক্ষার্থীরা বেশিরভাগ বই এখনো পায়নি।
অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা শতভাগা বই পেলেও বেশিরভাগ ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রীরা এখনো অনেক বই পাইনি।
এ ব্যাপারে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন ছাত্র-ছাত্রীরা বই না পাওয়ার ফলে তারা শিক্ষা জীবন থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে এবং পড়ালেখার প্রতি চরম মনোযোগী হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ছাত্ররা পড়ালেখার প্রতি বিমুখ হয়ে বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপের সাথে জড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ব্যাপারে সাবেক প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন নিজামি এবং অভিভাবক মীর হোসেন আমিনুল হক সহ অনেকেই বলেন কোন অজুহাতে ছাত্রদের হাতে বই পোঁছাতে এত দেরি করা মোটেও কাম্য নয়।
