ঘোড়াঘাটে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পাতা খেলা অনুষ্ঠিত


ঘোড়াঘাটে পাতা খেলার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন পৌর বিএনপির সভাপতি আবদুস সাত্তার মিলন।
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পাতা খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় ঘোড়াঘাট পূর্বপাড়ার ফুটবল খেলার মাঠে এ খেলার আয়োজন করা হয়। গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির এ খেলাকে ঘিরে মাঠজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। খেলা দেখতে মাঠের চারপাশে বিপুলসংখ্যক দর্শকের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রতিযোগিতায় মোট ছয়টি দল অংশ নেয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় ঘোড়াঘাট পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মোস্তফার দল প্রথম স্থান অধিকার করে। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সুমনের দল এবং তৃতীয় স্থান লাভ করে পলাশবাড়ী উপজেলার মগলিশপুর গ্রামের দল।
খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ঘোড়াঘাট পৌর বিএনপির সভাপতি আবদুস সাত্তার মিলন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
ওয়ারিশ সনদে তথ্য গোপন করে জমি আত্মসাতের চেষ্টা, থানায় এজাহার
শরীয়তপুরের ডামুড্যায় ওয়ারিশ সনদে প্রকৃত ওয়ারিশদের নাম বাদ দিয়ে জমি নামজারির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভূমি প্রতারণার অভিযোগে ডামুড্যা থানায় এজাহার দাখিল করেছেন মজিদ বেপারী (৭৫) নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগে ইসলামপুর ইউনিয়নের এক নারী ওয়ার্ড সদস্যসহ কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। থানায় দাখিল করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, ডামুড্যা উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের দাড়াইশকাটি গ্রামের মজিদ বেপারীর ছেলে ছোরাব বেপারী প্রায় সাত বছর আগে মারা যান। বাবার দাবি অনুযায়ী, ছোরাব বেপারীর নামে তিনটি দলিলে মোট ৭.৫০ শতাংশ জমি ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর বাবা-মা, স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে—মোট সাতজন উত্তরাধিকারী হন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বকুলা বেগম নামে এক নারী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করেন। এতে ছোরাব বেপারীর বাবা মজিদ বেপারী ও স্ত্রী কুনছুমা বেগমের নাম বাদ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন বাদী। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখের ৭১ নম্বর স্মারকমূলে দেওয়া ওয়ারিশ সনদে প্রকৃত ওয়ারিশদের নাম বাদ পড়ে। ওই সনদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসকে ভুল বুঝিয়ে নামজারি করার চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করেন মজিদ বেপারী। এতে তিনি ও তাঁর স্ত্রী ছেলের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। এজাহারে ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রুবিনা বেগম এবং অজ্ঞাতনামা আরও এক বা একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নামজারি করা সম্পত্তি পরবর্তী সময়ে রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৪ ধারায় অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে। বাদী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শ্যামনগরে দুর্গা পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ড.মনিরুজ্জামান
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত দুর্গা পূজার মন্ডপ পরিদর্শন সহ পূজা উৎযাপন কমিটির সাথে মতবিনিময় করলেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ড.মোঃ মনিরুজ্জামান মনির। রোববার (১৮ অক্টোবর)উপজেলার আটুলিয়া ইউপির দক্ষিণ বড় কুপট নদীর পাড় সার্ব জনীন দুর্গা পূজা মন্ডপ, দক্ষিণ বড় কুপট শিব মিলন দুর্গা মন্দির, নওয়াবেঁকী সার্বজনীন দুর্গা পূজা মন্ডপ, আটুলিয়া আদু মন্ডল বাড়ী দুর্গা পূজা মন্ডপ সহ অন্যান্য দুর্গা পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ড.মোঃ মনিরুজ্জামান মনির। এ সময় তিনি মন্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি ও পূজার আয়োজন সম্পর্কে খোঁজখবর নেন ও সনাতন ধর্মালম্বীদের সাথে শুভেচ্ছা ও সৌহার্দ্য বিনিময় করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সোলায়মান কবীর,যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক আবু সাঈদ,বাংলাদেশ কেন্দ্রিয় যুবদলের মৎস্য ও পশুপালন বিষয়ক সম্পাদক শাহজাহান রনি,পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক শেখ লিয়াকত আলী বাবু সহ বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন পূজা মন্ডপ কমিটির নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।

মাথাভাঙ্গা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ, সাত ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় মাথাভাঙ্গা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় সাত ঘণ্টা পর শিমুল হোসেন (৩৬) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার খাদিমপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মাথাভাঙ্গা নদী থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত শিমুল হোসেন আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর গ্রামের গাংপাড়ার বাসিন্দা কলিম উদ্দিন গাইনের একমাত্র ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মৃগীরোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার বেলা ১টার দিকে বাড়ির পাশের মাথাভাঙ্গা নদীতে গোসল করতে নামেন শিমুল। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারাও খোঁজাখুঁজিতে যোগ দেন। প্রায় সাত ঘণ্টা পর সন্ধ্যার দিকে নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ছাতকের ফুটবলকে এগিয়ে নিতে যাত্রা শুরু মানিক রওশন ফুটবল একাডেমির
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় ফুটবলের উন্নয়ন এবং নতুন প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে মানিক রওশন ফুটবল একাডেমি। তরুণ প্রজন্মকে ফুটবলে উৎসাহিত করা, দক্ষ খেলোয়াড় গড়ে তোলা এবং স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায়ে ফুটবল প্রতিভা তুলে ডেলিভারি করা এই একাডেমির মূল লক্ষ্য। বিশেষ আকর্ষণ হলো, এখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ফুটবল প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছে তরুণ খেলোয়াড়রা। জানা গেছে, কালারুকা ইউনিয়নের লন্ডন প্রবাসী, যুব সংগঠক ও শিক্ষানুরাগী রিয়াদ আলমগীরের উদ্যোগে ২০২৫ সালের ২০ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয় মানিক রওশন স্পোর্টস একাডেমি। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ছাতক উপজেলার স্থানীয় কালারুকা ইউনিয়নের হাসনাবাদ-অষ্টগ্রাম পাবলিক খেলার মাঠে তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়মিত অনুশীলন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি সুনামগঞ্জ তথা বৃহত্তর সিলেট বিভাগের বিভিন্ন একাডেমি ও স্থানীয় ফুটবল ক্লাবের সাথে প্রতিমাসে প্রীতি ম্যাচ খেলে থাকে; এতে তরুণ খেলোয়াড়দের স্কিল ও পারফরম্যান্স যাচাই করে থাকেন উক্ত একাডেমির প্রধান প্রশিক্ষক। এই একাডেমির প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাফুফে সার্টিফাইড, এএফসি লাইসেন্স প্রাপ্ত অভিজ্ঞ কোচ সামিউন আহমেদ। তাঁর সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় একাডেমির সার্বিক ফুটবল প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। পাশাপাশি প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন সুনামগঞ্জ জেলা দল ও ছাতক উপজেলা দলের বর্তমান ফুটবলার আশিকুল হক। অভিজ্ঞ কোচ ও অফিসিয়ালদের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে একাডেমির তরুণরা। এই একাডেমিটির অন্যতম ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হলো, এখানে ভর্তি হতে কোনো টাকা-পয়সা লাগে না। এমনকি মাসিক ফি কিংবা প্রশিক্ষণ বাবদও কোনো অর্থ দিতে হয় না। এছাড়াও খেলার জার্সি, অনুশীলনের উপকরণ সহ যাবতীয় সবকিছু সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেয়া হয়। ফুটবল শেখার এই সুযোগ স্থানীয় আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও প্রতিভাবান তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে বলে আশা করছেন স্পোর্টস সংশ্লিষ্টরা। মানিক রওশন ফুটবল একাডেমি, ছাতক এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক রিয়াদ আলমগীর বলেন, “আমরা সবাই মিলে মানিক রওশন ফুটবল একাডেমির কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো, এই একাডেমি থেকে দক্ষ খেলোয়াড় তৈরি করে তাদের উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে মেধা বিকাশের সুযোগ করে দেওয়া। আমরা চাই, এখান থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসুক এবং দেশের ফুটবলকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখুক। এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।” এর বাইরে একাডেমির পরিচালকের সাথে আমাদের সংবাদ প্রতিনিধি যোগাযোগ করলে তিনি জানান, নিকট ভবিষ্যতে একাডেমির নিজস্ব একটি অনুশীলন মাঠ ও জিম সেন্টার করতে চান, পাশাপাশি আরও আধুনিক অনুশীলন উপকরণ যুক্ত করার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রয়েছে, তবে উনার পক্ষে এতো কিছু বাস্তবায়ন সম্ভব না, তাই তিনি ছাতকের সকল সমাজসেবী, শিক্ষানুরাগী, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সকলের কাছে সাহায্য, সহযোগিতা ও পরামর্শের অনুরোধ জানিয়েছেন। ক্রীড়াপ্রেমীদের মতে, পরিকল্পিত প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ কোচের দিকনির্দেশনা এবং বিনামূল্যে ফুটবল শেখার সুযোগ অব্যাহত থাকলে মানিক রওশন ফুটবল একাডেমি ছাতকের ফুটবলে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় তরুণদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের ফুটবলার তৈরির পথও সুগম হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। ছাতকের মাঠ থেকে জাতীয় পর্যায়—এমন স্বপ্নকে সামনে রেখে মানিক রওশন ফুটবল একাডেমি এগিয়ে নিতে চায় নতুন প্রজন্মের ফুটবলযাত্রা।

আধুনিক প্রযুক্তির ভীড়ে হারিয়ে যাচ্ছে মুড়ি ভাজার প্রাচীন পদ্ধতি
ভোরের আলো ফুটতেই গ্রামের কোনো বাড়ির উঠানে জ্বলে উঠত চুলা। পাশে রাখা থাকত গরম বালু, চাল আর মুড়ি ভাজার সরঞ্জাম। আগুনের তাপে গরম বালুর মধ্যে চাল ছেড়ে দক্ষ হাতে মুড়ি তৈরি করতেন কারিগররা। চারপাশে ছড়িয়ে পড়ত ভাজা মুড়ির মিষ্টি গন্ধ। শিশুদের কৌতূহলী চোখ আর বাড়ির মানুষের ব্যস্ততায় মুখর হয়ে উঠত উঠান। গ্রামবাংলার সেই পরিচিত দৃশ্য এখন ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। একসময় গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ছিল মুড়ি ভাজার এই প্রাচীন পদ্ধতি। বাড়িতে অতিথি এলে মুড়ি, নারকেল, গুড় কিংবা পেঁয়াজ-মরিচ দিয়ে মাখা খাওয়ার চল ছিল। কৃষকের মাঠের কাজের ফাঁকে, হাটে কিংবা বিকেলের আড্ডায় মুড়ি ছিল সহজলভ্য নাশতা। অনেক পরিবার মুড়ি ভেজে জীবিকাও নির্বাহ করত। প্রাচীন এই পদ্ধতিতে মুড়ি তৈরি সহজ কাজ নয়। চালের অবস্থা ও বালুর তাপ বুঝে দ্রুত হাতে কাজ করতে হয়। অভিজ্ঞতা না থাকলে ভালো মুড়ি তৈরি করা কঠিন। কিন্তু আধুনিক যন্ত্রে উৎপাদিত মুড়ির প্রসার, শ্রমসাধ্য কাজ এবং নতুন প্রজন্মের অনাগ্রহে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী এই পদ্ধতি। গ্রামের প্রবীন গৃহিণী নুরজাহান বেগম বলেন, “আগে বাড়ির আশপাশেই মুড়ি ভাজার দৃশ্য দেখা যেত। গরম গরম মুড়ি হাতে পেলে অন্য রকম আনন্দ লাগত। এখন আর আগের মতো দেখা যায় না। আমাদের ছেলেমেয়েরা এসব কাজের সঙ্গে পরিচিতও হচ্ছে না।” মুড়ি শুধু খাবার নয়, গ্রামবাংলার জীবনযাত্রা ও লোকজ সংস্কৃতিরও একটি অংশ। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রামীণ নারীর শ্রম, পারিবারিক জীবনের স্মৃতি আর সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাস। স্থানীয়ভাবে এই ঐতিহ্য সংরক্ষণ, কারিগরদের সহায়তা এবং নতুন প্রজন্মকে এ পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত করার উদ্যোগ নেওয়া গেলে হারিয়ে যাওয়া এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব। নইলে একদিন গরম বালুতে মুড়ি ভাজার দৃশ্য হয়তো শুধু প্রবীণদের স্মৃতিতেই বেঁচে থাকবে।


