অস্ত্রের উৎস নিয়ে প্রশ্ন
রায়পুরায় চইক্কা ইসমাইলের কাছ থেকে ৬ ঘণ্টায় দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার
নরসিংদীর রায়পুরায় চইক্কা ইসমাইলের কাছ থেকে ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগের পর থানায় যায় ইসমাইল।
এসময় স্থানীয় লোকজন পুলিশকে তার বিষয়ে কিছু অপরাধের তথ্য প্রদান করে। পরে তাঁর গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।
এরপর স্থানীয়দের দেয়া তথ্যমতে পরে তাকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে নেমে পরে। তবে অস্ত্র দুটি কোথা থেকে এসেছে, কারা তাঁকে সরবরাহ করেছে এবং কী উদ্দেশ্যে সেগুলো রাখা হয়েছিল—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনো মেলেনি।
স্থানীয় সূত্র ও প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সন্ধ্যায় স্ত্রীকে মারধরের পর অভিযোগ জানাতে রায়পুরা থানায় যান ইসমাইল। এ সময় স্থানীয় লোকজন পুলিশকে ইনফর্ম করে। পরে তাঁর গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। এরই মধ্যে তাঁর হাতে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র থাকার আট সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজ পুলিশের নজরে আসে। এরপর তাঁকে সঙ্গে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
প্রথম অভিযানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ইসমাইলের বাড়ি থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও কয়েক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয় বলে জানা গেছে। তবে দ্বিতীয় অস্ত্রটির বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ প্রথমে ইসমাইলের বরাত দিয়ে জানায়, সেটি পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে এবং পরদিন সকালে অর্থাৎ আজকে উদ্ধার করা হবে।
এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। পরে তাঁর তদারকিতে রাত আনুমানিক ৪টার দিকে আরও একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সব মিলিয়ে পৃথক দুটি অভিযানে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের কথা স্বীকার করেছে পুলিশ।
তবে দ্বিতীয় অস্ত্রটি ঠিক কোথা থেকে এবং কার হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, তা নিয়ে পুলিশের বক্তব্যে অসংগতি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একেক সময় একেক ধরনের তথ্য পাওয়ায় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাটি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
অস্ত্রের উৎস নিয়ে গুরুতর অভিযোগ
একটি গোপন সূত্রের দাবি, রায়পুরার বাঘাইকান্দী এলাকার এক শিল্পপতির মাধ্যমে ইসমাইলের হাতে অস্ত্র দুটি পৌঁছেছিল। স্থানীয় একজন রাজনৈতিক নেতা ও সাবেক জনপ্রিয় চেয়ারম্যানকে হত্যার পরিকল্পনায় অস্ত্রগুলো ব্যবহারের উদ্দেশ্য ছিল বলেও সূত্রটি দাবি করেছে।
সংশ্লিষ্ট শিল্পপতির পরিচয়, অস্ত্র সরবরাহে তাঁর কথিত ভূমিকা এবং হত্যার পরিকল্পনার বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। তবে ভিকটিম এ প্রতিবেদককে জানান, ইসমাইল ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার তাকে আক্রমন করে ব্যার্থ হয়েছে।
সূত্রটির আরও দাবি, প্রথম অস্ত্রটি উদ্ধারের পর দ্বিতীয় অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের অনীহা ছিল।
ওসির বক্তব্য
এ বিষয়ে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান দৈনিক নিখাদ খবরকে পৃথক দুটি অভিযানে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের কথা স্বীকার করেছেন। তবে অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
যেসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন
অস্ত্র দুটি কার কাছ থেকে বা কার হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, কীভাবে ইসমাইলের হাতে পৌঁছেছে এবং কোনো হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে এগুলোর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
পাশাপাশি অস্ত্র উদ্ধারের সময়, স্থান ও অভিযানের বিবরণে পুলিশের বক্তব্যে কোনো অসংগতি রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা জরুরি।
দৈনিক নিখাদ খবরের পক্ষ থেকে এ ঘটনার বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, অস্ত্রের উৎস এবং অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা যাচাইয়ের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
