দৈনিক যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের ৪৮ ঘণ্টা পর রাজধানীর লালবাগের জেএন সাহা রোডে ড্রেনেজ ও সড়ক সংস্কারকাজ পরিদর্শন করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় বালুঘাট ঢাল থেকে সাত শহীদ কমিউনিটি সেন্টার পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ড্রেন ও রাস্তা সংস্কারকাজ পরিদর্শন করে তিনি বিভিন্ন অসংগতি সংশোধনের নির্দেশ দেন এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করেন। এ সময় অঞ্চল-৩-এর প্রকৌশলী আহসান হাবীব ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ২৩ অক্টোবর শুক্রবার যুগান্তরের অনলাইন সংস্করণে ‘লালবাগে ড্রেনেজ সংস্কারে অনিয়ম, নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশও উপেক্ষিত’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে এক কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দের এ প্রকল্পে নির্ধারিত পুরুত্বের চেয়ে কম সিসি ঢালাই, গাঁথুনির উচ্চতা কম রাখা, পুরোনো ইট ব্যবহার ও ড্রেনের ময়লা পানি প্রবাহিত রেখেই ঢালাই দেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরা হয়। এর আগে অঞ্চল-৩-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ত্রুটিপূর্ণ কাজ ভেঙে পুনরায় করার নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ ওঠে।
পরিদর্শন শেষে নূর আজিজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, সংবাদে ড্রেনের তলদেশের ঢালাইয়ের পুরুত্ব ও পুরোনো ইট ব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ জানতে পেরে তারা সরেজমিনে এসেছেন। প্রাক্কলনে স্যালভেজ ম্যাটেরিয়াল হিসেবে কিছু পুরোনো ইট ব্যবহারের বিধান থাকলেও পরিদর্শনে কয়েকটি অসংগতি পাওয়া গেছে। সেগুলো সংশোধন করে সঠিকভাবে কাজ করতে ঠিকাদারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সতর্ক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকল্পের প্রাক্কলনসহ বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করে সাইনবোর্ড স্থাপন, ড্রেনে কাজ চলাকালে ময়লা না ফেলতে এলাকাবাসীকে সতর্ক করা এবং ঢালাইয়ের সময় পানি নিষ্কাশনে ডাইভারশন পাইপসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডাইভারশন ছাড়া ঢালাইয়ের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হলে তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং নির্দিষ্ট সেটিং টাইমের মধ্যে পানি গেলে ঢালাইয়ের স্থায়িত্ব কমে যেতে পারে। তাই নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে বলা হয়েছে।
প্রধান প্রকৌশলী আরও বলেন, পুরো ঢাকা শহরে একসঙ্গে অনেক প্রকল্পের কাজ চলায় সীমিত জনবল দিয়ে সব কাজ শতভাগ তদারকি করা কঠিন। তবে ডিএসসিসি সার্বিক তদারকির মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করবে। এলাকাবাসীর পরামর্শ ও সম্পৃক্ততা নিয়ে কাজটি করা উচিত ছিল উল্লেখ করে এ ক্ষেত্রে ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। প্রয়োজনে স্থানীয়দের নিয়ে তদারকি কমিটি গঠন করে কাজের মান নিশ্চিত করা হবে। সরকারি ছুটি থাকায় আগে পরিদর্শনে আসা সম্ভব হয়নি; অন্যথায় সংবাদ দেখার পরপরই ব্যবস্থা নেওয়া হতো বলেও জানান তিনি। অনিয়ম ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় যুগান্তরকে ধন্যবাদ জানান প্রধান প্রকৌশলী।
স্থানীয় বাসিন্দা রোকন উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর প্রধান প্রকৌশলী সরেজমিনে কাজ পরিদর্শন করে সিটি করপোরেশনের তদারকি ও এলাকাবাসীর সমন্বয়ে কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছেন। এতে তারা সন্তুষ্ট।
উল্লেখ, জেএন সাহা রোডের দুই পাশে ৪০০ মিটার করে মোট ৮০০ মিটার সড়ক ও ড্রেন সংস্কারে বরাদ্দ রয়েছে এক কোটি ৮০ লাখ টাকা। প্রকল্পটির নির্মাণমান নিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগের পর অঞ্চল-৩-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাও আগে সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রাক্কলন অনুযায়ী ত্রুটিপূর্ণ কাজ পুনরায় করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এবার প্রধান প্রকৌশলীর পরিদর্শন ও নতুন নির্দেশনার পর সেগুলো কতটা বাস্তবায়িত হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে প্রকল্পের নির্মাণমান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টি।