Published on
:
2 min read
পার্থ দত্ত
পুজোর গন্ধ এসেছে। কিন্তু সেই গন্ধে বাংলায় ছুটে আসছেন না কোয়েল বর। গত দু'বছরের মতো এ বারও পুজোয় ছুটি নেই দেশের অন্যতম প্রতিশ্রুতিমান ওয়েটলিফ্টারের।
আপনার চোখে ভবিষ্যতের মীরাবাই চানু কে? বুধবার বিকেলে যখন উত্তরপ্রদেশের মোদীনগরে ফোন করে যোগাযোগ করা গেল 'দ্রোণাচার্য' কোচ বিজয় শর্মাকে, তখন তিনি ব্যস্ত মীরাবাই সহ ওয়েটলিফ্টারদের ট্রেনিংয়ে। তার মধ্যেই প্রশ্নোওর পর্বে তাঁর জবাব, 'আমি মীরাবাইয়ের উত্তরসূরি হিসেবে বেছে নিচ্ছি আপনাদের বাংলার কোয়েলকে।'
বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ, অলিম্পিক, কমনওয়েলথ গেমস, এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের পরে সদ্য সমাপ্ত আইচি–নাগোয়া এশিয়ান গেমসেও পদক জিতেছেন মীরা। গত ১২ বছর ধরে বিজয় শর্মার অধীনেই সব সাফল্য পেয়েছেন মীরা। মণিপুরি এই লিফ্টারের বয়স ৩২। তিনি চোট আঘাতে জর্জরিতও। ফলে শুরু হয়েছে তাঁর উত্তরসূরি খোঁজা। আর সেই উত্তরসূরিই হাওড়ার ধূলাগড়ের মেয়ে কোয়েল বর।
বিজয়ই ফোনে ধরিয়ে দিলেন কোয়েলকে। পুজোয় তাঁর প্ল্যান কী? অত্যন্ত কম কথার কোয়েল বললেন, 'গত দু–বছরের মতো এ বারও আমি পুজোয় মোদীনগরেই থাকছি। আর প্রত্যেকদিনই দৈনিক ৩–৪ ঘণ্টা করে প্র্যাক্টিসে ডুবে থাকব স্যরের ট্রেনিংয়ে।' যোগ করেন, 'আমাদের এখানে তেমন পুজো হয় না। তাই যা ঠাকুর দেখব, তা টিভি আর মোবাইলেই।' মন খারাপ হবে না? ক্লাস টেনের ছাত্রীর জবাব, 'একদমই হবে না। পুজো অনেক আসবে। কিন্তু প্র্যাক্টিস ফাঁকি দিলে তো অলিম্পিকে নামার স্বপ্নটাই পূরণ হবে না।'
বিজয়ের সংযোজন, 'পরের মাসেই দোহাতে ওয়েটলিফ্টিংয়ের ওয়ার্ল্ড কাপ। সেটা অলিম্পিকের বাছাই পর্বও। আমি কোয়েলকে সেখানে নামাব।' গত বছর আমেদাবাদে কমনওয়েলথ ওয়েটলিফ্টিংয়ে ইউথ গ্রুপে ৫৩ কেজি বিভাগে ১৯২ কেজি তুলে বিশ্বরেকর্ড গড়ে সোনা জিতেছিলেন কোয়েল। তারপরে ১০ মাস টুর্নামেন্টে নামতে পারেননি পিঠের চোটে। এখন তিনি পুরো ফিট হয়ে নিচ্ছেন ওয়ার্ল্ড কাপের প্রস্তুতি। বিজয় বলছিলেন, 'কোয়েল এখনও ইউথে নামতে পারে। কিন্তু আমি ওকে সিনিয়র বিভাগের জন্যই তৈরি করেছি। ও সেটার জন্য তৈরি।'
কোয়েলের বাবা মিঠুন ধূলাগড় হাইওয়ে এক্সপ্রেসের ফুটপাতে মুরগির মাংস বেচেন। নিজে ভালো যোগাসন করলেও সংসারের চাপে খেলা ছেড়ে দেন মিঠুন। তবে মেয়েকে ১০ বছর বয়স থেকে পাঁচলার সফল কোচ অষ্টম দাসের কাছে লিফ্টিং শেখানোর ব্যবস্থা করেন। অষ্টমের হাত ধরেই বাংলার হয়ে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো ফল করেন কোয়েল। তার জন্যই ২০২৩ সালে পাতিয়ালায় জাতীয় শিবিরে ডাক পান। সেখান থেকেই বিজয় তাঁকে নিয়ে চলে যান মোদীনগরে নিজের অ্যাকাডেমি 'ওয়েটলিফ্টিং ওয়ারিয়র্স'–এ। বিনা খরচে বিজয় তৈরি করছেন কোয়েলকে।
কী দেখে কোয়েলকে তাঁর ভবিষ্যতের মীরা মনে হচ্ছে? বিজয়ের জবাব, 'যে কোনও খেলায় ডিসিপ্লিনের সঙ্গে ভালো টেকনিকটা খুব জরুরি। যা মীরার ছিল। কোয়েলেরও আছে।'
আত্মবিশ্বাস ঝরে পড়ে দেশের অন্যতম সেরা কোচের গলায়।